বিউটি গাইড

শীতকালে ত্বকের যত্ন: শুষ্ক ত্বকের সহজ রুটিন

শীতকালে ত্বকের যত্ন: শুষ্ক ত্বকের সহজ রুটিন
Share this post

শীত পড়তে না পড়তেই মুখে টান ধরে, গাল খসখসে লাগে আর ঠোঁট ফেটে যায়। শীতকালে ত্বকের যত্ন তাই বছরের বাকি সময়ের চেয়ে একটু আলাদা করে ভাবতে হয়। সুখবর হলো, এর জন্য দশটা পণ্য লাগে না। ঠিক সময়ে ঠিক কয়েকটা অভ্যাসই যথেষ্ট।

শীতকালে ত্বকের যত্ন কেন আলাদা করে ভাবা দরকার

শীতের বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকে। ত্বকের ভেতরের পানি সহজেই বাতাসে মিলিয়ে যায়, আর ত্বকের ওপরের স্তর তখন আগের মতো নরম থাকে না। ঘরে হিটার বা ফ্যানের শুকনো হাওয়া আর খুব গরম পানিতে গোসল এই শুষ্কতা আরও বাড়ায়।

শীতের শুরুতে আবহাওয়া হঠাৎ বদলায় বলে ত্বক মানিয়ে নিতে সময় নেয়। এ সময় অনেকে গরমের দিনের হালকা লোশনেই আটকে থাকেন, আর তখনই টান ধরা শুরু হয়। তাই ঠান্ডা পড়ার প্রথম সপ্তাহেই রুটিন একটু বদলে নেওয়া ভালো।

ফলে চেনা লক্ষণগুলো দেখা দেয়: মুখ ধোয়ার পর টান, গালে ও থুতনিতে সাদাটে খোসা, হাতের পিঠ আর কনুই খসখসে হওয়া। যাঁদের ত্বক এমনিতেই শুষ্ক, তাঁদের কষ্ট একটু বেশি। নিজের ত্বক কেমন, সেটা না জানলে ত্বকের ধরন চেনার গাইড দেখে নিতে পারেন।

শীতকালে ত্বকের যত্নের সকালের রুটিন: তিন ধাপই যথেষ্ট

  • মুখ পরিষ্কার: শুষ্ক ত্বকে সকালে অনেকেরই শুধু কুসুম গরম পানি বা খুব হালকা, ফোম কম এমন ক্লিনজার আরামদায়ক লাগে। ঘষাঘষি করবেন না।
  • ময়েশ্চারাইজার: ত্বক সামান্য ভেজা থাকতেই লাগান। এতে আর্দ্রতা আটকে রাখতে সুবিধা হয়।
  • সানস্ক্রিন: শীতেও রোদ থাকে, তাই বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন বাদ দেবেন না। মেঘলা দিনেও লাগানো ভালো।

সকালের রুটিন যত ছোট রাখবেন, তত নিয়মিত মানতে পারবেন। আর নিয়মিত হওয়াটাই আসল।

রাতের রুটিন: ত্বক মেরামতের সময়

রাতে মেকআপ বা সানস্ক্রিন থাকলে আগে ক্লিনজার বা তেলভিত্তিক রিমুভারে তা তুলে নিন, তারপর হালকা ফেস ওয়াশে মুখ ধুয়ে ফেলুন। শুকনো তোয়ালে দিয়ে ঘষবেন না, আলতো চেপে মুছুন।

এরপর চাইলে একটা হাইড্রেটিং সিরাম, তারপর ময়েশ্চারাইজার। শীতে একটু ঘন টেক্সচারের ক্রিম রাতে বেশি কাজে আসে। ঠোঁটে রাতে লিপ বাম লাগিয়ে ঘুমালে সকালে ঠোঁট নরম থাকে। সিরাম নিয়ে বিস্তারিত পরে পাবেন সিরাম গাইডে।

গোসল ও মুখ ধোয়ার অভ্যাস বদলান

গরম পানি আরামদায়ক, কিন্তু ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমিয়ে দেয়। শীতে এই ছোট বদলগুলো সাহায্য করতে পারে:

  • খুব গরম নয়, সহনীয় কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন।
  • গোসল দীর্ঘ না করে অল্প সময়ে শেষ করুন।
  • সুগন্ধি ও ঝাঁঝালো সাবানের বদলে মৃদু, ময়েশ্চারাইজিং বডি ওয়াশ বা সাবান বেছে নিন।
  • গোসলের পর তোয়ালে দিয়ে চেপে পানি মুছে তিন মিনিটের মধ্যে ক্রিম বা লোশন লাগান।

মুখ ধোয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা: দিনে বারবার ধোয়ার দরকার নেই। দুইবারই যথেষ্ট।

শুষ্ক ত্বকের ময়েশ্চারাইজার বাছার সময় কী দেখবেন

শুষ্ক ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার কেনার সময় কয়েকটা জিনিস মিলিয়ে দেখুন। উপাদানের তালিকায় গ্লিসারিন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সিরামাইড বা শিয়া বাটারের মতো নাম থাকলে সেগুলো সাধারণত ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। জেল টেক্সচার হালকা, ক্রিম একটু ঘন। শীতে ক্রিমই বেশি আরামদায়ক হয়।

সুগন্ধ বা অ্যালকোহল বেশি থাকলে সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালা করতে পারে, তাই ড্রাই স্কিনের জন্য ময়েশ্চারাইজার নেওয়ার সময় ঘ্রাণহীন বা কম ঘ্রাণের বিকল্প দেখুন। প্যাকেটে লেখা ব্যবহারবিধি পড়ুন, আর কেনার আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন। বাছাইয়ের আরও বিস্তারিত পাবেন ময়েশ্চারাইজার বাছার গাইডে।

ঘর, খাবার আর ঘুম: ভেতর থেকে যত্ন

ত্বকের যত্ন শুধু ক্রিম লাগানোয় থামে না। ঘুমের ঘরে বাতাস অতিরিক্ত শুকনো হলে সকালে মুখ ও গলা টানটান লাগতে পারে। হিটার বা এসি চালালে ঘরে এক বাটি পানি রাখা বা হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা অনেকের কাছে আরামদায়ক। ঘুমানোর আগে ফোন কম ঘাঁটলে ঘুমও গভীর হয়, আর ত্বক নিজের মেরামতের সময় পায়।

খাবারেও ছোট বদল কাজে আসে। দিনে পর্যাপ্ত পানি, মৌসুমি ফল, সবজি আর বাদাম বা মাছের মতো স্বাভাবিক চর্বির উৎস রাখলে শরীর সামগ্রিকভাবে ভালো থাকে। এগুলো কোনো ক্রিমের বিকল্প নয়, বরং বাইরের যত্নের সঙ্গে পরিপূরক।

সপ্তাহের হিসাব: কোনটা কতদিন পরপর

  • প্রতিদিন: ক্লিনজার বা মুখ ধোয়া, ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন।
  • সপ্তাহে একবার: হালকা এক্সফোলিয়েশন, যদি ত্বক সহ্য করে। জ্বালা করলে আরও কমান বা বন্ধ রাখুন।
  • সপ্তাহে একবার-দুইবার: হাইড্রেটিং ফেস মাস্ক।
  • প্রয়োজনমতো: লিপ বাম, হ্যান্ড ক্রিম, গোড়ালির ক্রিম।

এই হিসাব মানলে ত্বক একসাথে বেশি চাপ পায় না, আর রুটিন মনে রাখাও সহজ থাকে।

ঠোঁট, হাত, পা ও শরীরের যত্ন

শীতে শুধু মুখ নয়, শরীরের বাকি অংশও টান ধরে।

  • ঠোঁট: ঠোঁট কামড়ানো বা চামড়া টেনে ওঠানো এড়িয়ে চলুন। সারাদিনে কয়েকবার লিপ বাম লাগান।
  • হাত: বারবার হাত ধোয়ার পর ছোট হ্যান্ড ক্রিম সঙ্গে রাখুন।
  • পা ও গোড়ালি: রাতে ঘন ক্রিম লাগিয়ে মোজা পরে ঘুমালে সকালে পা নরম লাগে।
  • কনুই ও হাঁটু: গোসলের পর ভালো করে লোশন বা বডি বাটার মাখুন।

শীতে যে ভুলগুলো সবাই করে

  • ঘন ঘন স্ক্রাব করা। শুষ্ক ত্বকে বেশি স্ক্রাব ত্বককে আরও রুক্ষ করতে পারে। সপ্তাহে একবার হালকা এক্সফোলিয়েশনই যথেষ্ট, আর সংবেদনশীল হলে আরও কম।
  • পানি কম খাওয়া। শীতে তেষ্টা কম পায়, তাই অনেকে পানি কম খান। অল্প অল্প করে সারাদিন পানি পান করুন।
  • একসাথে অনেক নতুন পণ্য শুরু করা। একটা একটা করে যোগ করুন, তাহলে কোনটা সুট করছে বুঝবেন।
  • রোদে বসে সানস্ক্রিন বাদ দেওয়া। শীতের মিষ্টি রোদেও সানস্ক্রিন দরকার।

ShopeMart-এ কী পাবেন

শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্রিম, লোশন, জেল ও বাটারের মতো নানা ধরনের ময়েশ্চারাইজার দেখতে ShopeMart-এর ময়েশ্চারাইজার ক্যাটেগরিতে ঘুরে আসুন। দাম নির্ভর করে উপাদান, পরিমাণ আর ধরনের ওপর, তাই কেনার আগে তালিকা মিলিয়ে দেখুন। সঙ্গে সানস্ক্রিন লাগলে সানপ্রটেক্ট ক্যাটেগরি দেখতে পারেন।

এই লেখা সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ত্বক বেশি লাল হলে, ফেটে রক্ত বের হলে বা চুলকানি না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

প্রায়ই করা প্রশ্ন

শীতে কি তৈলাক্ত ত্বকেও ময়েশ্চারাইজার লাগবে?

হ্যাঁ, লাগতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকেও আর্দ্রতার দরকার হয়, তবে হালকা জেল বা লোশন ধরনের ময়েশ্চারাইজার সাধারণত বেশি আরামদায়ক।

দিনে কতবার ময়েশ্চারাইজার লাগাব?

সাধারণত সকাল আর রাতে দুইবার যথেষ্ট। হাত বা ঠোঁট বেশি শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনমতো বাড়তি লাগাতে পারেন।

শীতে কি সানস্ক্রিন সত্যিই লাগে?

সাধারণত হ্যাঁ। রোদ কম মনে হলেও অতিবেগুনি রশ্মি থাকে, তাই বাইরে গেলে সানস্ক্রিন লাগানো ভালো অভ্যাস।

মুখে খোসা উঠলে কি টেনে তুলে ফেলব?

না, টেনে তুললে ত্বক আরও জ্বলতে পারে। ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে ধৈর্য ধরুন, খোসা ধীরে ধীরে নিজেই মিলিয়ে যাবে।

শীতে কি ফেস প্যাক বা মাস্ক ব্যবহার করা যায়?

যায়, তবে শুষ্ক ত্বকে হাইড্রেটিং ধরনের মাস্ক সপ্তাহে একবার-দুইবার ব্যবহার করাই যথেষ্ট। নতুন কোনো মাস্ক আগে প্যাচ টেস্ট করে নিন।

ShopeMart-এ কিনুন

আরও পণ্য দেখুন →