বাটিক থ্রি পিস ও ব্লক প্রিন্ট: গরমের আরামদায়ক পছন্দ আর রঙ ধরে রাখার যত্ন

গরম পড়লে অনেকেই গাঢ় সিল্ক বা ভারী কাজের পোশাক সরিয়ে রেখে হালকা প্রিন্টের থ্রি পিস খোঁজেন। সেই খোঁজে বাটিক থ্রি পিস আর ব্লক প্রিন্ট থ্রি পিস প্রায় সবসময়ই সামনে আসে। রঙিন, হালকা, আর হাতের কাজের একটা আলাদা আবেদন আছে এগুলোর। তবে এ ধরনের পোশাকে রং ধুলে উঠে যাওয়ার ভয় থাকে। এই লেখায় বাটিক আর ব্লক প্রিন্ট কী, কীভাবে বাছবেন আর কীভাবে যত্ন নেবেন, সেটা সহজ ভাষায় বলা হলো।
বাটিক কী
বাটিক এক ধরনের রং করার পদ্ধতি। কাপড়ের কিছু অংশে মোম বা অনুরূপ কিছু লাগিয়ে আটকে দেওয়া হয়, তারপর কাপড় রঙে ডুবানো হয়। মোম লাগানো জায়গায় রং ঢোকে না, ফলে নকশা তৈরি হয়। রং করার পর মোম সরিয়ে নিলে সুন্দর আঁকাবাঁকা নকশা চোখে পড়ে। প্রতিটি টুকরোর নকশা কিছুটা আলাদা হয়, তাই হুবহু একই রকম দুটো কাপড় পাওয়া কঠিন।
বাজারে "বুটিক থ্রি পিস" বা "চুনরি বাটিক" নামেও এমন পোশাক পাওয়া যায়। এসব নাম অনেক সময় বিক্রেতার নিজস্ব। তাই কেনার আগে কাপড় আর পদ্ধতির বিবরণ দেখে নিন।
ব্লক প্রিন্ট কী
ব্লক প্রিন্টে কাঠের খোদাই করা ছাঁচে রং লাগিয়ে কাপড়ে ছাপ দেওয়া হয়। একটার পর একটা ছাপ মিলিয়ে পুরো নকশা তৈরি হয়। হাতের কাজ হলে ছাপের মাঝে সামান্য এদিক-ওদিক থাকা স্বাভাবিক, সেটাই এর সৌন্দর্য। নকশায় সাধারণত ফুল, লতা, জ্যামিতিক আকৃতি বেশি দেখা যায়।
দুটোর মধ্যে সহজ তফাত
- বাটিক: নকশা প্রবহমান, রঙের মিশ্রণ আর ফাটা-ফাটা দাগের মতো প্রভাব থাকে।
- ব্লক প্রিন্ট: নকশা পুনরাবৃত্ত, পরিষ্কার আর সমান ছাপ।
দুটোই সুতি বা হালকা কাপড়ে হলে গরমে আরামদায়ক। কোনটা পছন্দ, সেটা আপনার রুচির ওপর। জমকালো, রঙের ঢেউ পছন্দ হলে বাটিক। পরিপাটি, ঐতিহ্যবাহী ছাপ পছন্দ হলে ব্লক প্রিন্ট।
গরমে কেন আরামদায়ক
এ ধরনের থ্রি পিস সাধারণত সুতি বা হালকা কাপড়ে তৈরি হয়। সুতি ঘাম শুষে নেয়, আর বাতাস চলাচলের সুযোগ দেয়। হালকা রঙ আর খোলা প্রিন্ট রোদে চোখকে স্বস্তি দেয়। ঢিলেঢালা কাটের কামিজ আর সুতির সালোয়ার বা পালাজো মিলিয়ে সারাদিন পরার জন্য এগুলো বেশ উপযোগী।
কেনার সময় যা যা দেখবেন
- কাপড়ের ধরন: বিবরণে সুতি বা কটন লেখা আছে কি না দেখুন। না থাকলে জিজ্ঞেস করুন।
- প্রিন্টের সমতা: ব্লক প্রিন্টে ছাপ আবছা বা অর্ধেক মুছে যাওয়া কি না দেখুন।
- রঙের পাকা ভাব: বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন, রং কতটা পাকা। গাঢ় রং হলে প্রথম ধোয়ায় সামান্য ছাড়া স্বাভাবিক।
- তিন অংশের মিল: কামিজ, সালোয়ার আর ওড়নার রং বা প্রিন্ট মিলছে কি না।
- কাপড়ের ওজন: খুব পাতলা হলে ভেতরে পোশাক লাগতে পারে, মোটা হলে গরমে অস্বস্তি।
- ধোয়ার নির্দেশনা: কোথাও উল্লেখ থাকলে সেটা মেনে চলুন।
রং ধরে রাখার যত্ন
বাটিক আর ব্লক প্রিন্টের রং লম্বা সময় টিকিয়ে রাখতে এই নিয়মগুলো মেনে চলুন।
- প্রথমবার আলাদা ধুন। অন্য কাপড়ের সাথে একসাথে ধুবেন না। রং ছাড়লে অন্য কাপড় নষ্ট হতে পারে।
- ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। গরম পানিতে রং বেশি ওঠে।
- উল্টো করে ধুন। এতে প্রিন্টের ঘষা লাগে কম।
- মৃদু সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন, কড়া ব্লিচ বা ঝাঁঝালো পাউডার এড়ান।
- বেশিক্ষণ ভিজিয়ে রাখবেন না। কয়েক মিনিটের মধ্যে ধুয়ে নিন।
- ছায়ায় শুকান। সরাসরি কড়া রোদে রং ফিকে হয়ে যেতে পারে।
- ইস্ত্রি করুন উল্টো পিঠে, মাঝারি তাপে। প্রিন্টের ওপর সরাসরি গরম ইস্ত্রি না দেওয়াই ভালো।
কয়েকবার ধোয়ার পর প্রিন্ট একটু নরম বা ফ্যাকাসে মনে হতে পারে। এটা স্বাভাবিক, আর হাতের কাজের পোশাকের বৈশিষ্ট্যের মধ্যেই পড়ে।
কোন পোশাকের সাথে কী মানায়
- কামিজ প্রিন্টের হলে: সালোয়ার বা পালাজো সাদামাটা রঙের নিন। প্রিন্টই আলাদা করে চোখে পড়বে।
- ওড়না প্রিন্টের হলে: কামিজ আর সালোয়ার একরঙা রাখলে ভারসাম্য থাকে।
- গহনা: হালকা বা ধাতব ঝুমকা, রুপালি ধাঁচের গহনা কিংবা কাঠের চুড়ি এসব পোশাকে মানানসই। কানের গহনার ধারণা চাইলে ShopeMart-এর কানের দুল ক্যাটেগরি দেখতে পারেন।
- জুতো: কোলাপুরি, স্যান্ডেল বা সাধারণ ফ্ল্যাট।
বাটিক শাড়ি নিয়ে এক কথা
বাটিক শুধু থ্রি পিসে নয়, শাড়িতেও পাওয়া যায়। ব্যবহার আর যত্নের নিয়ম প্রায় একই: ঠান্ডা পানি, ছায়ায় শুকানো আর আলাদা ধোয়া। শাড়ি বাছাই নিয়ে আরও জানতে পারেন সুতি শাড়ি, তাঁত ও খাদির গাইডে।
কোন উপলক্ষে বাটিক বা ব্লক প্রিন্ট মানায়
- রোজকার পোশাক: সুতির বাটিক থ্রি পিস অফিস, ক্লাস বা বাজারে যাওয়ার জন্য আরামদায়ক।
- পারিবারিক দাওয়াত বা ঘরোয়া অনুষ্ঠান: একটু উজ্জ্বল রঙের ব্লক প্রিন্ট সেট ভালো মানায়।
- ঈদের দিনের হালকা পোশাক: গরমের ঈদে ভারী পোশাকের বদলে ব্লক প্রিন্ট বা বাটিক সুতি অনেকের পছন্দ।
- ভ্রমণ: ভাঁজ পড়লেও তুলনামূলক কম চোখে পড়ে, তাই সুবিধাজনক।
খুব ভারী বিয়ের পোশাক হিসেবে এগুলো সাধারণত বেছে নেওয়া হয় না। এগুলোর আসল সৌন্দর্য সরলতা আর হাতের কাজের ছোঁয়ায়।
ধোয়ার আগে রং পরীক্ষার সহজ উপায়
নতুন কাপড়ের রং কতটা পাকা, সেটা ঘরেই মোটামুটি যাচাই করা যায়।
- কাপড়ের কোনো লুকানো কোণ, যেমন ভেতরের দিকের ঝুল বা সেলাইয়ের প্রান্ত, বেছে নিন।
- একটু ভিজিয়ে একটা সাদা কাপড় বা টিস্যু দিয়ে চেপে ধরুন।
- সাদা কাপড়ে রং লাগলে বুঝবেন রং ছাড়ছে। সেক্ষেত্রে প্রথমে আলাদা, ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন।
এই পরীক্ষা ধোয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি দূর করে না, তবে আগে থেকে সতর্ক হতে সাহায্য করে। সন্দেহ হলে পুরো পোশাক নষ্ট করার আগে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন।
ShopeMart-এ কী পাবেন
ShopeMart-এর ব্লক প্রিন্ট সালোয়ার কামিজ ক্যাটেগরিতে ব্লক প্রিন্ট ধাঁচের থ্রি পিস দেখতে পারেন। কেনার আগে কাপড়, মাপ আর যত্নের বিবরণ দেখে নিন। থ্রি পিস কেনার আরও সাধারণ গাইড আছে থ্রি পিস কেনার আগে জানুন লেখায়।
প্রায়ই করা প্রশ্ন
বাটিক থ্রি পিসের রং কি ধুলে উঠে যায়?
কিছু রং প্রথম কয়েকবার ধোয়ায় সামান্য ছাড়তে পারে। ঠান্ডা পানিতে আলাদা ধুলে আর ছায়ায় শুকালে ঝুঁকি কমে।
ব্লক প্রিন্ট আর স্ক্রিন প্রিন্টের তফাত কী?
ব্লক প্রিন্টে কাঠের ছাঁচে হাতে ছাপ দেওয়া হয়, আর স্ক্রিন প্রিন্টে জালের পর্দা দিয়ে। বিবরণে কোনটা লেখা আছে, দেখে নিন।
গরমে কোন কাপড়ের প্রিন্ট ভালো?
সুতি বা কটন সাধারণত সবচেয়ে আরামদায়ক। খুব পাতলা বা খুব মোটা কাপড় এড়ানোই ভালো।
চুনরি বাটিক বলতে কী বোঝায়?
নামটা সাধারণত বিক্রেতার নিজস্ব। এতে সাধারণত রঙের ছোট বিন্দুর মতো প্রভাব থাকে, তবে কাপড় আর পদ্ধতি বিবরণে জেনে নেওয়াই ভালো।







