ফ্যাশন গাইড

হিজাব স্টাইল: সকালের তাড়াহুড়ো থেকে ঈদের দাওয়াত, ৭টি সহজ উপায়

হিজাব স্টাইল: সকালের তাড়াহুড়ো থেকে ঈদের দাওয়াত, ৭টি সহজ উপায়
Share this post

ধরুন সকাল সাতটা। হাতে সময় কম, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আপনি তৃতীয়বার হিজাব খুলে আবার পরছেন, আর পিনটা কিছুতেই ঠিক জায়গায় বসছে না। হিজাব স্টাইল নিয়ে এই ঝামেলা প্রায় সবারই চেনা। মজার কথা, স্টাইল কঠিন নয়; কোন সময়ে কোনটা পরবেন সেটা ঠিক করা থাকলেই কাজ অর্ধেক হয়ে যায়। চলুন একটা দিনের গল্পের মতো করে সাতটা সহজ উপায় দেখে নিই।

সকাল সাতটা: ক্লাস বা অফিসের হিজাব স্টাইল

এই সময়ে দরকার এমন কিছু, যা পাঁচ মিনিটে হয় আর সারা দিন জায়গায় থাকে। ক্লাসে বা অফিসে বসে থাকলে বারবার হিজাব ঠিক করা যায় না, তাই সরল ভাঁজই এখানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। রঙ সাধারণ হলে কটন বা জার্সি ভালো মানায়।

১. ক্লাসিক ত্রিভুজ ভাঁজ। বর্গাকার স্কার্ফ কোনাকুনি ভাঁজ করে ত্রিভুজ বানান। লম্বা কোনা পিছনে রেখে কপালের ওপর দিয়ে নিন, দুই পাশ চিবুকের নিচে এনে একটা পিন লাগান। রোজকার জন্য এটাই সবচেয়ে সহজ।

২. সামনে একটু ভাঁজ করা স্তর। ওই একই ত্রিভুজে এক কোনা সামনে ভাঁজ করে ফেললে কপালের কাছে হালকা একটা স্তর তৈরি হয়, মুখের ফ্রেমটা পরিষ্কার দেখায়। গোছানো ভাব চাইলে এটা ভালো।

আর যেদিন সত্যিই সময় নেই, সেদিন রেডি হিজাব। এটা আগে থেকে সেলাই করা বা আকার দেওয়া, মাথা গলিয়ে পরে নিলেই হলো; পিনও লাগে না, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকাও লাগে না। যাঁরা সদ্য হিজাব পরা শুরু করেছেন, তাঁদের জন্যও এটা স্বস্তির। আমার পরামর্শ, প্রথমবার হলে সবচেয়ে সাধারণ রঙের একটা রেডি হিজাব দিয়ে শুরু করুন।

দুপুরের মধ্যে সরে যায়? তিনটা ছোট কথা

এই অভিযোগটা সবচেয়ে বেশি শোনা যায়, আর বেশির ভাগ সময় কারণ হিজাবের স্টাইল নয়, নিচের প্রস্তুতি।

  • ইনার ক্যাপ বা আন্ডার স্কার্ফ পরে নিন। এটা চুল জায়গায় রাখে, আর পিছলে যাওয়া অনেকটা আটকায়।
  • পিন একটু পাশে লাগান, চিবুকের ঠিক নিচে নয়। সামনে থেকে কম চোখে পড়ে। ম্যাগনেট পিন কাপড়ে ছিদ্র করে না, তবে খুব পাতলা কাপড়ে ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।
  • মাথার পিছনে টানটান করে বাঁধবেন না। বেশি টানলে মাথাব্যথা হতে পারে। হালকা আরাম রেখে পরুন।

বের হওয়ার আগে দিনের আলোয় একবার আয়নায় দেখে নিন। পিছনের ভাঁজ বা ফাঁক ওখানেই ধরা পড়ে।

দুপুরের গরমে আর ভ্রমণে হিজাব স্টাইল

বাস, রিকশা বা ট্রেনে ঘুরতে হলে এমন কিছু চাই যা গরমে কষ্ট দেয় না, আবার ভাঁজ পড়লেও চেহারা নষ্ট হয় না।

৩. গলার চারপাশে প্যাঁচ। লম্বা আয়তাকার স্কার্ফ মাথায় বসিয়ে এক প্রান্ত গলার চারপাশে একবার ঘুরিয়ে কাঁধের পিছনে ফেলুন। ঘাড় ঢাকা থাকে, আর হিজাব সহজে খোলে না।

৪. জার্সির স্লিপ-অন। জার্সি নরম আর স্থিতিস্থাপক, তাই রেডি হিজাব আর স্লিপ-অন স্টাইলে খুব চলে। ইস্ত্রির ঝামেলাও কম, সুটকেসে ভরে নিলেও চলে।

কাপড়ের কথাটা এখানেই বলে রাখি, কারণ একই স্টাইল কাপড়ভেদে আলাদা দেখায়:

  • কটন বা লন: শ্বাস নেয়, গরমে আরাম দেয়, পিনও ভালো ধরে। ইস্ত্রি করলে গোছানো থাকে।
  • জার্সি: ওপরে বলা হলো, ভ্রমণ আর তাড়াহুড়োর সেরা সঙ্গী।
  • শিফন ও জর্জেট: হালকা আর ঝরঝরে, তবে পিছলে যায়। ইনার ক্যাপ আর শক্ত পিন বা ম্যাগনেট ছাড়া ভরসা নেই।
  • ভিসকস বা সিল্কি কাপড়: চকচকে ভাব দেয়, কিন্তু পিছলে যাওয়ার প্রবণতাও বেশি।

গরমের মৌসুমে হালকা রঙ আর পাতলা সুতি বেছে নিলে অস্বস্তি কম হয়।

পাঁচ সেকেন্ডের সমাধান: খিমার

৫. খিমার। খিমার লম্বা আর ঢিলা, মাথা থেকে বুক বা কোমর পর্যন্ত নামে। অনেক খিমারে সামনে ইলাস্টিক বা মাথা গলানোর ব্যবস্থা থাকে, তাই পিন ছাড়াই পরা যায়। যাঁরা এক ধাপে মাথা আর বুক দুটোই ঢাকতে চান, তাঁদের জন্য এটা সত্যিই সুবিধার। অনেকে খিমারের সঙ্গে বোরকা বা আবায়াও পরেন; এই দুইয়ের তফাত নিয়ে আলাদা লেখা আছে, আবায়া বনাম বোরকা পড়ে দেখতে পারেন। খিমার বোরকার সেট দেখতে চাইলে ShopeMart-এর খিমার ক্যাটাগরিতে নানা কাপড় আর দৈর্ঘ্যের খিমার পাবেন।

ঈদের দাওয়াত: হিজাব স্টাইল একটু সাজিয়ে

দাওয়াতে যাওয়ার দিন একটু সাজগোজ তো চাই। কিন্তু সাজ বেশি হলে পরার ঝামেলাও বাড়ে, আর দাওয়াতের ভিড়ে বারবার হিজাব ঠিক করার সুযোগও থাকে না। তাই দুটো সহজ পথ বলি, দুটোই আগের দিন একবার পরে দেখে নিলে ভালো।

৬. দুই পাশে প্যাঁচ। আয়তাকার স্কার্ফ মাথার ওপর দিয়ে দুই পাশ সমান ঝুলিয়ে নিন। এক পাশ চিবুকের নিচ দিয়ে উল্টো কাঁধের ওপর তুলে পিন করুন, অন্য পাশ সামনে ফেলে রাখুন বা পিছনে নিয়ে যান। শিফন বা জর্জেটে এই স্টাইলে সুন্দর পড়ন আসে। পোশাকের রঙের সঙ্গে মেলানো ছোট একটা ব্রোচ বা পিন দিলেই হয়ে গেল।

৭. হিজাব ওড়না। লম্বা ওড়না বা স্টোল মাথায় ফেলে এক পাশ কাঁধে ঘুরিয়ে নিলে নরম, ঢিলেঢালা লুক হয়। থ্রি পিসের সঙ্গে মিলিয়ে পরতে চাইলে এটা ভালো। তবে ওড়না সহজে সরে যায়, তাই ভেতরে ইনার ক্যাপ রাখুন। এই ভুলটা অনেকেই করেন।

একটা কথা মনে রাখবেন, কোনো স্টাইল সবার মুখে একইভাবে মানায় না। দুই-তিনটা আয়নার সামনে চেষ্টা করে দেখুন; যেটায় আপনি স্বচ্ছন্দ, সেটাই আপনার রোজকার স্টাইল।

কেনার আগে মাপটা দেখে নিন

অনলাইনে হিজাব বা খিমার কেনার সময় সাইজ নিয়ে দ্বিধা হওয়া স্বাভাবিক। কয়েকটা সোজা নিয়ম:

  • স্কার্ফ: বর্গাকার হলে ত্রিভুজ স্টাইলে সুবিধা, আয়তাকার বা লম্বা হলে প্যাঁচ আর ঝুলন্ত স্টাইলে। বিবরণে দৈর্ঘ্য-প্রস্থ লেখা থাকে, দেখে নিন।
  • খিমারের দৈর্ঘ্য: কাঁধ থেকে বুক বা কোমর পর্যন্ত ফিতা দিয়ে মেপে বিবরণের মাপের সঙ্গে মেলান।
  • রেডি হিজাব: মাথার পরিধি আর কতটা ঝুলবে, এই দুটো দেখুন। চুল বেশি হলে বা ইনার ক্যাপ পরলে একটু ঢিলা ফিট নেওয়া ভালো।
  • পুরোনো হিজাব মেপে রাখুন। যেটা আপনার সবচেয়ে প্রিয়, সেটার মাপ লিখে রাখলে নতুন কেনার সময় তুলনা করা সহজ হয়।

দাম নির্ভর করে কাপড়, কাজ আর ডিজাইনের ওপর, তাই বিবরণ আর কাপড়ের কথা মিলিয়ে নিন। বোরকার সঙ্গে পরার কিছু খুঁজলে বোরকা ক্যাটাগরিও দেখতে পারেন।

শেষে তিনটা ছোট প্রশ্ন

শিফন বা জর্জেট হিজাব কীভাবে ধোব?

নরম সাবান বা শ্যাম্পু দিয়ে হাতে ধোয়াই ভালো। জোরে নিংড়াবেন না, চেপে পানি ঝরিয়ে মেলে দিন।

হিজাব ভাঁজ করে রাখব, নাকি ঝুলিয়ে?

ঝুলিয়ে রাখলে কাপড়ে ভাঁজের দাগ কম পড়ে। জায়গা কম থাকলে ভাঁজ করলে দোষ নেই, ব্যবহারের আগে একটু ইস্ত্রি করে নিন।

সবচেয়ে সহজ হিজাব স্টাইল কোনটা?

তাড়াহুড়োর দিনে রেডি হিজাব বা খিমার, আর হাতে পাঁচ মিনিট থাকলে ক্লাসিক ত্রিভুজ ভাঁজ। আগে এই দুটো অভ্যাস হয়ে গেলে বাকিগুলো আপনিই সহজ লাগবে।

ShopeMart-এ কিনুন

আরও পণ্য দেখুন →