Become a VendorBecome a Reseller
ব্যাগ গাইড

লেডিস ব্যাগ কেনার আগে ভাবুন, আপনার ব্যাগে আসলে কী কী থাকে?

লেডিস ব্যাগ কেনার আগে ভাবুন, আপনার ব্যাগে আসলে কী কী থাকে?
Share this post

ধরুন, ব্যাগ নতুন কিনবেন বলে ঠিক করেছেন। ফোনে স্ক্রল করছেন, একটার রঙ ভালো তো আরেকটার ডিজাইন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ পরে দেখা যায়, ব্যাগটা সুন্দর হলেও ছাতাটা ঢোকে না, কিংবা ফোন খুঁজতে হাতড়াতে হয়। আসলে লেডিস ব্যাগ বাছার সবচেয়ে সোজা পথ হলো ছবি দেখার আগে নিজের ব্যাগটা উপুড় করা। চলুন, সেটাই একটু করে দেখি।

আপনার লেডিস ব্যাগে আসলে কী কী থাকে?

কাগজ-কলম না হলেও চলে, মনে মনে একটা তালিকা করুন। কাল সকালে বেরোনোর সময় কী কী নিয়েছিলেন?

  • ফোন, মানিব্যাগ আর চাবি: প্রায় সবারই থাকে।
  • ছাতা বা ছোট পানির বোতল।
  • লিপবাম, ক্রিম, চিরুনি, টিস্যু: ছোট ছোট প্রসাধনী।
  • ওষুধ বা ব্যান্ডেজ, সেফটি পিন।
  • কারও কারও ক্ষেত্রে ডায়েরি, লাঞ্চ বক্স বা ল্যাপটপ।

এবার তালিকাটা তিন ভাগে ফেলুন। যদি বেশির ভাগই ছোট ছোট জিনিস, আপনার দরকার গোছানোর ব্যবস্থা। যদি ফোন-মানিব্যাগের সঙ্গে দু-একটা বাড়তি জিনিস, তাহলে মাঝারি ব্যাগ। আর যদি বেশি ঘোরাঘুরি করতে হয়, তাহলে এমন ব্যাগ যাতে হাত খালি থাকে। নিচে একে একে বলছি।

ছোট জিনিসের ভিড় হলে ভ্যানিটি ব্যাগ

মজার কথা, অনেকে ভ্যানিটি ব্যাগকে আলাদা ব্যাগ ভাবেন, আসলে এটা অনেকটা গোছানো একটা বাক্স। ছোট ছোট জিনিস এক জায়গায় থাকে, তাই বড় ব্যাগের তলায় কিছু হারায় না। সফরে গেলে প্রসাধনী আর ওষুধ একসঙ্গে রাখার জন্য বেশ কাজের।

কেনার সময় দুটো জিনিস দেখে নিন। ভেতরের আস্তরণ মুছে নেওয়া যায় কি না, কারণ ক্রিম বা তরল জিনিস চুঁইয়ে পড়লে সেটাই প্রথম ঝামেলা। আর চেইনের খোপ বা জালি পকেট আছে কি না, যাতে ছোট জিনিস ঘুরে ঘুরে এক কোনায় না জমে।

আমার পরামর্শ: ভ্যানিটি ব্যাগ একটা বড় ব্যাগের সঙ্গে জুটি বেঁধে চলে। একাই সব কাজ চালাতে চাইলে সেটা ছোট পড়বে।

ফোন, মানিব্যাগ আর একটু বাড়তি হলে হ্যান্ডব্যাগ

রোজকার জন্য মাঝারি আকারের হ্যান্ডব্যাগ অনেকের কাছেই সবচেয়ে সুবিধার। হাতে ঝোলানো যায়, কাঁধেও নেওয়া যায়। তবে একটা ভুল সবাই করে: বেশি বড় ব্যাগ কিনে ফেলা। বড় ব্যাগে জায়গা আছে বলে সবকিছু ভরে ফেলা হয়, ওজন বাড়ে, আর কাঁধ ব্যথা করে। প্রথমবার হলে তাই মাঝারি আকার দিয়েই শুরু করুন।

বই, লাঞ্চ বক্স বা কেনাকাটার জিনিস বেশি বহন করলে খোলা মুখের বড় টোট ব্যাগ ভালো, তবে সেটা নিয়ে আলাদা করে টোট, সাইড ব্যাগ ও ক্লাচ: কোনটা কখন লেখায় বলেছি।

হাত খালি রাখতে চাইলে সাইড ব্যাগ

বাজারে যাচ্ছেন, রিকশায় উঠছেন, এক হাতে ছাতা আরেক হাতে ফোন। এই অবস্থায় হাতব্যাগ ধরে রাখা বিরক্তিকর। সাইড ব্যাগ বা শোল্ডার ব্যাগ আড়াআড়ি ঝুলিয়ে নিলে দুই হাতই খালি থাকে। ঘোরাঘুরি আর যাতায়াতের জন্য তাই এটা জনপ্রিয়।

এখানে স্ট্র্যাপটাই আসল। খুব সরু স্ট্র্যাপ ভারী ব্যাগে কাঁধে কেটে বসতে পারে। চওড়া স্ট্র্যাপ বা দৈর্ঘ্য বদলানো যায় এমন স্ট্র্যাপ হলে আরামে থাকবেন।

অনুষ্ঠানে যাবেন, ফোন আর লিপস্টিক ছাড়া কিছু নেবেন না, তখন ছোট ক্লাচ চলে। অফিস বা কলেজের জন্য খুঁজলে অফিস ও কলেজ ব্যাগ কেনার টিপস দেখে নিতে পারেন।

নিজের ছবিটা মিলিয়ে নিন

একটু সহজ করে বলি। ধরুন আপনি ক্লাস বা অফিস সেরে সোজা বাজারে যান, তাহলে আপনার জন্য মাঝারি সাইড ব্যাগ ভালো, আর ভেতরে ছোট একটা পাউচ। যদি সফরে প্রসাধনী আর ওষুধ নিয়ে অনেক কিছু গুছিয়ে রাখতে হয়, তাহলে ভ্যানিটি ব্যাগ আগে। আর বাড়ি থেকে বেরোলে সঙ্গে ল্যাপটপ বা বই থাকে, তাহলে বড় হ্যান্ডব্যাগ বা টোট।

একটা কথা মনে রাখবেন। ব্যাগ সুন্দর হওয়া আর কাজের হওয়া এক জিনিস নয়। সবচেয়ে ভালো ব্যাগ সেটাই, যেটা খুলে আপনি অন্ধকারেও ফোনটা খুঁজে পান।

কেনার সময় হাতে নিয়ে দেখুন

দোকানে গেলে ব্যাগ হাতে নিয়ে দেখা যায়, অনলাইনে ছবি আর বিবরণ ভালো করে পড়তে হয়। দুই ক্ষেত্রেই একই তালিকা কাজে লাগে।

  • আকার: দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর গভীরতা দেখুন। নিজের ফোন, মানিব্যাগ আর ছাতা এতে ধরে কি না একবার মনে মনে ঢুকিয়ে দেখুন।
  • উপাদান: চামড়া, সিনথেটিক চামড়া, ক্যানভাস বা কাপড়, বিবরণে স্পষ্ট লেখা আছে কি না।
  • চেইন: দুই-তিনবার টেনে দেখুন, মসৃণ চলে কি না। চেইন ব্যাগের সবচেয়ে দুর্বল অংশগুলোর একটা।
  • স্ট্র্যাপ আর তার জোড়: যেখানে স্ট্র্যাপ ব্যাগের সঙ্গে লাগানো, সেখানে সেলাই মজবুত কি না।
  • সেলাই আর কোনা: সেলাই সোজা, কোনা পরিষ্কার হলে ব্যাগ বেশি দিন টেকে।
  • ওজন: খালি অবস্থাতেই ভারী হলে জিনিস ভরার পর কাঁধে চাপ বাড়বে।

দাম নিয়ে একটা কথা। ব্যাগের দাম নির্ভর করে উপাদান, সেলাই, ডিজাইন আর ভেতরের গঠনের ওপর। শুধু কম দাম দেখে না কিনে কয়েকটা পণ্যের উপাদান, আকার আর চেইনের মান পাশাপাশি রেখে তুলনা করুন। যে ব্যাগ রোজ ব্যবহার করবেন, সেখানে একটু বেশি মনোযোগ দেওয়া ভালো। আর এক-দুবারের অনুষ্ঠানের ব্যাগে অত খরচ না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

এমন কিছু খুঁজলে ShopeMart-এর মেয়েদের ব্যাগ ক্যাটাগরিতে হাতব্যাগ, সাইড ব্যাগ, ভ্যানিটি ব্যাগ আর ক্লাচের মতো নানা ধরন দেখতে পারেন। পছন্দের আগে আকার, উপাদান আর স্ট্র্যাপের বিবরণ মিলিয়ে নিন।

ঘরে আনার পর যা করবেন

ব্যাগ কেনা শেষ নয়, গুছিয়ে রাখাটাও জরুরি।

  • জরুরি জিনিস, যেমন ফোন, চাবি আর মানিব্যাগ, সব সময় একই পকেটে রাখুন। তাহলে হাতড়ে খুঁজতে হবে না।
  • ব্যাগ ঠাসা না ভরে কিছুটা জায়গা ফাঁকা রাখুন, সেলাইয়ে চাপ কম পড়বে।
  • প্রসাধনী আর খাবার আলাদা রাখুন, যাতে চুঁইয়ে পড়লে বাকি জিনিস নষ্ট না হয়।
  • ভেজা ব্যাগ রোদে না শুকিয়ে ছায়ায় শুকান।
  • চামড়া বা সিনথেটিক চামড়ার ব্যাগের ধুলো নরম ভেজা কাপড়ে মুছুন, কড়া রাসায়নিক এড়িয়ে চলুন।
  • মাসে একবার ব্যাগ উপুড় করে অকাজের কাগজ ফেলে দিন।

চেইন আটকে যাচ্ছে বা স্ট্র্যাপের সেলাই খুলছে, এমন হলে প্রথমে মুচি বা দর্জির কাছে নিয়ে দেখাতে পারেন। ছোট ক্ষয় সারিয়ে নিলে ব্যাগ অনেক দিন চলে।

কয়েকটা প্রশ্ন, যা বন্ধুরা প্রায়ই করে

রোজকার জন্য কোন ধরনের লেডিস ব্যাগ ভালো?

মাঝারি আকারের হ্যান্ডব্যাগ বা সাইড ব্যাগ সাধারণত সুবিধাজনক। এতে দরকারি জিনিস ধরে যায় আর ওজনও বেশি হয় না।

ভ্যানিটি ব্যাগ আর হ্যান্ডব্যাগের পার্থক্য কী?

সোজা কথায়, ভ্যানিটি ব্যাগ ছোট জিনিস গুছিয়ে রাখার জন্য। হ্যান্ডব্যাগ হলো মূল ব্যাগ, যাতে ফোন, মানিব্যাগের মতো রোজকার জিনিস থাকে।

একটা ব্যাগেই কি সব কাজ চালানো যায়?

চলে, তবে সব সময় আরামে নয়। একটা মাঝারি ব্যাগ আর ভেতরে ছোট একটা ভ্যানিটি ব্যাগ বা পাউচ রাখলে গোছানো থাকে।

ShopeMart-এ কিনুন

আরও পণ্য দেখুন →