Become a VendorBecome a Reseller
বিউটি গাইড

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন: গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সকাল-রাতের সহজ রুটিন ও পণ্য বাছার গাইড

তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন: গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় সকাল-রাতের সহজ রুটিন ও পণ্য বাছার গাইড
Share this post

বাংলাদেশের গরম আর স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় মুখ অনেক সময় দুপুরের মধ্যেই চকচকে হয়ে যায়। তখন মনে হয়, বারবার ধুলেই বুঝি ঠিক হবে। কিন্তু তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন মানে ত্বকের সব তেল সরিয়ে ফেলা নয়, বরং ত্বককে একটা ভারসাম্যে রাখা। সকাল ও রাতের কয়েকটা সহজ ধাপ, লেবেলে কী দেখবেন আর কোন ভুলগুলো এড়াবেন, সবই নিচে ধাপে ধাপে বলা হলো।

আপনার ত্বক কি সত্যিই তৈলাক্ত

মুখ ধোয়ার এক-দুই ঘণ্টার মধ্যে কপাল, নাক আর থুতনি চকচকে হয়ে যাচ্ছে, লোমকূপ বড় দেখাচ্ছে, আর মেকআপ দ্রুত সরে যাচ্ছে? তাহলে ত্বক তৈলাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে শুধু টি-জোন তেলতেলে হলে সেটা মিশ্র ত্বকও হতে পারে। নিশ্চিত হতে ধোয়ার পর কিছুক্ষণ কিছু না মেখে অপেক্ষা করে দেখুন, ত্বক কীভাবে আচরণ করে। এর সহজ পদ্ধতি আছে আমাদের ত্বকের ধরন চেনার গাইডে।

গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন কেন আলাদা

গরমে ঘাম আর তেল মিলে মুখে একটা ভারী স্তর তৈরি হয়। ধুলো-ময়লা সেই স্তরে সহজে আটকে যায়, আর তাতে লোমকূপ বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। আবার এসি ঘরে ঢুকলে ত্বক বাইরে তেলতেলে, ভেতরে পানির অভাবে টানটান, এমনও লাগতে পারে। মনে রাখার মতো কথা হলো, তৈলাক্ত ত্বকও পানির অভাবে ভোগে। তেল আর পানি এক জিনিস নয়, তাই তেল বেশি থাকলেও ত্বকের আর্দ্রতা দরকার।

সকালের রুটিন: তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন ধাপে ধাপে

  • ধাপ ১, মৃদু ক্লিনজার: হালকা জেল বা ফোমিং ফেস ওয়াশ দিয়ে খুব গরম পানি নয়, স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানিতে মুখ ধুয়ে নিন। ঘষবেন না, আঙুলের ডগায় ৩০ সেকেন্ডের মতো আলতো করে মালিশ করুন।
  • ধাপ ২, টোনার (ইচ্ছে হলে): অ্যালকোহলমুক্ত, জলীয় ধরনের টোনার ব্যবহার করা যায়। না লাগালেও চলে।
  • ধাপ ৩, হালকা ময়েশ্চারাইজার: জেল বা জেল-ক্রিম ধরনের পাতলা ময়েশ্চারাইজার অল্প পরিমাণে লাগান।
  • ধাপ ৪, সানস্ক্রিন: সবার শেষে, বাইরে যাওয়ার আগে।

ময়েশ্চারাইজার বাদ দেওয়ার ধারণাটা একটা প্রচলিত ভুল। ত্বক শুকনো লাগলে সে নিজেই আরও তেল তৈরি করতে চাইতে পারে। হালকা ময়েশ্চারাইজার ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। এখানে মূল কথা একটাই: পাতলা, জেলের মতো টেক্সচার খুঁজুন।

রাতের রুটিন: দিনের জমা ময়লা তোলা

রাতে মুখ থেকে সানস্ক্রিন, ঘাম আর ধুলো পুরোটা তোলা দরকার। সানস্ক্রিন বা মেকআপ ভারী মনে হলে প্রথমে মাইসেলার ওয়াটার বা ক্লিনজিং ধরনের কিছু দিয়ে তুলে তারপর ফেস ওয়াশ দিয়ে ধুতে পারেন। এই দুই ধাপের ধোয়াকে ডাবল ক্লিনজিং বলে। এরপর হালকা ময়েশ্চারাইজার। রাতে সিরাম বা অ্যাক্টিভ কিছু লাগাতে চাইলে একবারে একটাই শুরু করুন, ধীরে ধীরে।

তৈলাক্ত ত্বকের ফেস ওয়াশ কেমন হওয়া উচিত

দিনে দুবার, সকালে আর রাতে, মুখ ধোয়াই সাধারণত যথেষ্ট। ঘামে ভিজলে বাড়তি একবার ধোয়া যেতে পারে। তৈলাক্ত ত্বকের ফেস ওয়াশ বাছার সময় নজর রাখুন:

  • জেল বা হালকা ফোম ধরনের টেক্সচার, যাতে ধোয়ার পর ত্বক টানটান না লাগে।
  • ধোয়ার পর মুখে টান ধরলে বা খসখসে লাগলে বুঝবেন পণ্যটা হয়তো আপনার ত্বকের জন্য একটু বেশি কড়া।
  • সুগন্ধি বা কড়া স্ক্রাবের কণা কম থাকা ভালো।

প্যাকে "oily skin" লেখা থাকলেও উপাদানের তালিকাটা একবার পড়ে নেওয়া ভালো।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সানস্ক্রিন

অনেকে তেলতেলে লাগবে ভেবে সানস্ক্রিন এড়িয়ে যান। অথচ রোদে ত্বক ঝলসানো আর দাগ গাঢ় হওয়ার ঝুঁকি তৈলাক্ত ত্বকেও একই। তাই তৈলাক্ত ত্বকের জন্য সানস্ক্রিন ছাড়া রুটিন অসম্পূর্ণ। কিছু বিষয় দেখে নিন:

  • টেক্সচার: অ্যাকোয়া-জেল, ওয়াটারি বা হালকা ফ্লুইড ধরনের সানস্ক্রিন সাধারণত ত্বকে কম ভারী লাগে।
  • SPF ও PA: লেবেলে SPF আর PA লেখা আছে কি না দেখুন। SPF মূলত UVB থেকে সুরক্ষা বোঝায়, আর PA বা "ব্রড স্পেকট্রাম" UVA-র ইঙ্গিত দেয়।
  • পরিমাণ ও সময়: মুখের জন্য আঙুলে দুই লাইন পরিমাণ নেওয়া হয়, বাইরে যাওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট আগে। ঘামলে বা দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকলে কয়েক ঘণ্টা পর আবার লাগাতে হয়।

তেল কমানো: লেবেলে কী দেখবেন

তেল কমানো বা চকচকে ভাব নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি উপাদানের নাম বেশি শোনা যায়। এগুলো সম্পর্কে সাধারণ ধারণা:

  • নায়াসিনামাইড: ভিটামিন বি৩-এর একটি রূপ। অনেক পণ্যে লোমকূপ ও তেল ভারসাম্যে রাখার কথা বলা হয়। কম শতাংশ থেকে শুরু করা সহজ।
  • স্যালিসিলিক অ্যাসিড (BHA): তেলে মিশে লোমকূপের ভেতর কাজ করতে পারে বলে জানা যায়। কিছু মানুষের ত্বকে শুষ্কতা বা জ্বালা হতে পারে।
  • হায়ালুরনিক অ্যাসিড ও গ্লিসারিন: তেলবিহীন আর্দ্রতা দেয়, তাই হালকা ময়েশ্চারাইজারে প্রায়ই থাকে।

কোনো অ্যাক্টিভ উপাদান নতুন শুরু করলে প্রথমে কানের পেছনে বা চোয়ালের পাশে ছোট জায়গায় প্যাচ টেস্ট করুন। তারপর সপ্তাহে দু-তিনদিন, অল্প পরিমাণে ব্যবহার করে ত্বকের প্রতিক্রিয়া দেখুন। একসঙ্গে একাধিক অ্যাক্টিভ শুরু করবেন না।

ত্বক চকচকে হয়ে যাওয়ার পর যা করবেন, আর যা করবেন না

দুপুরে মুখ চকচকে হয়ে গেলে আবার ধুয়ে ফেলা বা স্ক্রাব করা উপায় নয়। বরং:

  • ব্লটিং: পরিষ্কার টিস্যু বা ব্লটিং পেপার মুখে হালকা চেপে ধরুন, ঘষবেন না। এতে বাড়তি তেল উঠে আসে, ত্বক খোঁচা খায় না।
  • অতিরিক্ত ধোয়া নয়: দিনে তিন-চারবার ফেস ওয়াশ বা কড়া সাবান ত্বকের সুরক্ষা স্তর নষ্ট করতে পারে, আর ত্বক পাল্টা বেশি তেল তৈরি করতে চাইতে পারে।
  • স্ক্রাব কম: ঘন ঘন স্ক্রাব বা কড়া মাস্ক ত্বকে জ্বালা তৈরি করতে পারে।
  • ব্রণে হাত নয়: খোঁটা দিলে দাগ বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
  • ঘন ক্রিম নয়: গরমে ভারী ক্রিম লোমকূপ বন্ধ করে ফেলার অনুভূতি দিতে পারে।

ShopeMart-এ কী পাবেন

নিচের পণ্যগুলো ধরন বোঝানোর উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হলো। কোনটা আপনার ত্বকের জন্য ঠিক, তা আগে পণ্যের পাতা ও প্যাকের লেবেল পড়ে দেখে নিন।

আরও দেখতে পারেন ফেস ওয়াশ, ময়েশ্চারাইজার ও সান প্রোটেক্ট বিভাগ। ক্যাশ অন ডেলিভারির সুবিধা আছে।

সাধারণ প্রশ্ন

তৈলাক্ত ত্বকে কি ময়েশ্চারাইজার না লাগালেও চলে?

না লাগালে ত্বক শুকনো মনে হয়ে আরও তেল তৈরি করতে চাইতে পারে। তাই হালকা জেল ধরনের ময়েশ্চারাইজার অল্প করে লাগানোই সাধারণত ভালো।

দিনে কতবার মুখ ধোয়া উচিত?

সাধারণত সকালে একবার আর রাতে একবার। ঘামে ভিজে গেলে বাড়তি একবার ধোয়া যায়। এর বেশি ধুলে ত্বক শুষ্ক ও অস্বস্তিকর হয়ে যেতে পারে।

সানস্ক্রিন কি তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণ বাড়ায়?

সব সানস্ক্রিন ব্রণ বাড়ায় না, তবে ভারী ফর্মুলা কারও কারও ক্ষেত্রে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। হালকা টেক্সচার বেছে নিন, লেবেল পড়ুন আর ছোট জায়গায় আগে পরীক্ষা করে দেখুন।

নায়াসিনামাইড বা স্যালিসিলিক অ্যাসিড কীভাবে শুরু করব?

অল্প শতাংশের পণ্য দিয়ে, সপ্তাহে কয়েকদিন, ধীরে ধীরে। আগে প্যাচ টেস্ট করুন। লালচে ভাব, জ্বালা বা চুলকানি হলে বন্ধ করে দিন।

মুখ থেকে তেল কি একেবারে বন্ধ করা যায়?

না, আর তা দরকারও নয়। ত্বকের কিছু তেল সুরক্ষার কাজ করে। লক্ষ্য হলো তেলের ভারসাম্য, তেল শূন্য করা নয়।

এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ব্রণ, চুলকানি বা জ্বালার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ShopeMart-এ কিনুন

আরও পণ্য দেখুন →