অনলাইনে পোশাকের সাইজ কীভাবে বাছবেন? নিজের মাপ নেওয়ার সহজ নিয়ম (Online Dress Size Guide)

অনলাইনে পোশাক কিনে সাইজে গড়বড় হওয়া ফেরত বা বদলের অন্যতম বড় কারণ। অথচ ঝামেলাটা এড়ানো যায় মাত্র পাঁচ মিনিটে। লাগে শুধু একটা ফিতা আর একটু মনোযোগ।
আগে ফিতা আর কাগজ-কলম নিন
দর্জির নরম মাপার ফিতা হলেই চলবে, ইঞ্চির দাগওয়ালা। ঢিলা কাপড় বা ভারী জ্যাকেটের ওপর মাপবেন না। হালকা পাতলা পোশাক পরে মাপুন, ফিতা শরীরে বসে থাকবে কিন্তু চেপে বসবে না, ভেতরে একটা আঙুল ঢোকার মতো জায়গা রাখুন। একা মাপতে অসুবিধা হলে বাসার কাউকে ডেকে নিন। নিজের মাপ নিজে নিলে অনেক সময় ফিতা বেঁকে যায়।
এই ৬টা মাপ লিখে রাখুন
- বুক: সবচেয়ে ভরা জায়গা ঘিরে, ফিতা পিঠের দিকে যেন সোজা থাকে।
- কোমর: শরীরের সবচেয়ে সরু অংশ, সাধারণত নাভির সামান্য ওপরে।
- হিপ: সবচেয়ে চওড়া জায়গা ঘিরে।
- কাঁধ: এক কাঁধের শেষ প্রান্ত থেকে অন্য কাঁধের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত, পিঠের দিক দিয়ে।
- হাতা: কাঁধের প্রান্ত থেকে কবজি পর্যন্ত। তিন-চার ভাগের হাতা পছন্দ হলে সেই দৈর্ঘ্যেই মাপুন।
- কামিজের দৈর্ঘ্য: কাঁধের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত, যতটা লম্বা পরতে আপনি স্বচ্ছন্দ।
সবচেয়ে সহজ কৌশল: প্রিয় পোশাকটাই মেপে নিন
আলমারিতে এমন একটা কামিজ বা ড্রেস নিশ্চয়ই আছে, যার ফিটিং আপনার সবচেয়ে ভালো লাগে। সেটা সমতলে বিছিয়ে বুক, কাঁধ আর দৈর্ঘ্য মেপে নিন। এই মাপ সাইজ চার্টের সঙ্গে মেলালে প্রায় ভুল হয় না, কারণ এটা আপনার পছন্দের ফিটিংয়ের মাপ।
শরীরের মাপ আর পোশাকের মাপ এক জিনিস নয়
সাইজ চার্টে লেখা মাপটা কীসের, আগে দেখে নিন। কিছু চার্টে থাকে শরীরের মাপ, কিছুতে থাকে পোশাকের নিজের মাপ। পোশাকের মাপ হলে সাধারণত আরামের জন্য শরীরের চেয়ে কয়েক ইঞ্চি বেশি ধরা থাকে। ঢিলেঢালা ফিটিং ভালো লাগলে শরীরের মাপের চেয়ে এক-দুই ইঞ্চি বড় সাইজ বাছুন। একটু ফিটেড পছন্দ হলে কাছাকাছি সাইজই ঠিক।
দুই সাইজের মাঝামাঝি পড়লে
সাধারণত বড়টা নেওয়াই নিরাপদ। বড় পোশাক দর্জিকে দিয়ে ছোট করা যায়, ছোট পোশাক বড় করা প্রায় যায় না। বিশেষ করে এমব্রয়ডারি বা কাজ করা পোশাকে বাড়তি কাপড় থাকে না, তাই ছোট সাইজ নেওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি।
কাপড়ের কথাও ভাবুন
সুতির পোশাক প্রথম কয়েকবার ধোয়ায় সামান্য ছোট হতে পারে। জর্জেটের মতো পড়ে যাওয়া কাপড় সামান্য ঢিলা পরলেও ভালো দেখায়, কিন্তু টাইট হলে ভাঁজ ও টান পড়ে। কাপড় বাছতে সুতি আর জর্জেটের তুলনার গাইড দেখতে পারেন।
অর্ডারের আগে শেষ বার মিলিয়ে নিন
- পণ্যের পাতায় সাইজ চার্ট থাকলে খুলে নিজের মাপের সঙ্গে মেলান।
- বিবরণে মডেলের উচ্চতা বা পোশাকের দৈর্ঘ্য লেখা থাকলে নিজের উচ্চতার সঙ্গে তুলনা করুন।
- অন্য ক্রেতাদের রিভিউতে সাইজ ছোট না বড় পেয়েছেন, সেই মন্তব্য পড়ে নিন।
- অর্ডারের আগে রিটার্ন ও এক্সচেঞ্জ নীতি একবার পড়ে নিন, যাতে দরকারে কী করতে হবে জানা থাকে।
সচরাচর প্রশ্ন
সাইজ চার্ট না থাকলে কী করব?
প্রিয় পোশাকের মাপ নিয়ে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করুন বা চ্যাটে মাপ জানিয়ে পরামর্শ চান। মাপ না মিলিয়ে অনুমানে অর্ডার না দেওয়াই ভালো।
আমি তো দুই সাইজের মাঝামাঝি, কোনটা নেব?
সাধারণত বড়টা। ঢিলা হলে ঠিক করা যায়, ছোট হলে ঠিক করার উপায় প্রায় থাকে না।
মাপ কি প্রতি বছর বদলায়?
ওজন, গর্ভাবস্থা বা সময়ের সঙ্গে শরীরের মাপ বদলাতে পারে। বছরে একবার নতুন করে মেপে নিলে হিসাব ঠিক থাকে।
নিজের মাপ হাতে নিয়ে এবার সালোয়ার কামিজ, শারারা সুট বা ওমেন্স ড্রেস দেখে নিন। বাজেট নিয়ে ভাবলে বাজেটে অনলাইন ফ্যাশন শপিংয়ের টিপসগুলোও কাজে লাগবে।







