শাড়ি পরার স্টাইল: ৫টি সহজ পদ্ধতি ও ব্লাউজ ডিজাইনের আইডিয়া

শাড়ি ছয় গজের একটা কাপড় মাত্র, কিন্তু পরার ধরন বদলালেই চেহারা বদলে যায়। অনেকেই শাড়ি কিনে ফেলার পর ভাবেন, এবার কীভাবে পরব? এই লেখায় শাড়ি পরার স্টাইল নিয়ে পাঁচটি সহজ পদ্ধতি ধাপে ধাপে বোঝানো হলো, সঙ্গে আছে ব্লাউজ ডিজাইনের কাজের আইডিয়া। নতুন যাঁরা শাড়ি পরা শিখছেন, তাঁদের জন্য আলাদা কিছু টিপসও রাখা হলো।
শুরুর আগে যা ঠিক করে নিন
শাড়ি পরার সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করে প্রস্তুতির ওপর।
- পেটিকোট: কোমরে ঠিকঠাক বসে, আর শাড়ির রঙের সাথে মানানসই। খুব ঢিলে বা খুব টাইট হলে কুঁচি বসবে না।
- ব্লাউজ: ফিটিং ভালো হলে শাড়ি পরার অর্ধেক কাজ হয়ে যায়।
- জুতো: যে জুতো পরবেন, শাড়ি পরার সময়ই সেটা পরে নিন। না হলে নিচের প্রান্তের মাপ ভুল হতে পারে।
- সেফটিপিন: কয়েকটা হাতের কাছে রাখুন। কুঁচি আর আঁচল আটকাতে কাজে লাগে।
- আয়না: সম্ভব হলে পুরো আয়নার সামনে পরুন।
১. নিভি স্টাইল: সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি
নিভি স্টাইল শাড়ি পরার সবচেয়ে পরিচিত ধরন।
- শাড়ির একটি প্রান্ত পেটিকোটের কোমরে গুঁজে একপাক ঘুরিয়ে আনুন।
- আবার সামনে এলে সমান করে পাঁচ-ছয়টা কুঁচি নিন, প্রতিটি আনুমানিক চার আঙুল চওড়া।
- কুঁচিগুলো গুছিয়ে নাভির সামান্য নিচে গুঁজে দিন।
- বাকি অংশ আবার পেছন থেকে ঘুরিয়ে এনে আঁচল হিসেবে বাঁ কাঁধে ফেলুন।
- আঁচলে কুঁচি করে সেফটিপিন দিয়ে ব্লাউজের সাথে আটকে নিন।
২. সোজা আঁচল: হালকা শাড়ির জন্য
এখানে আঁচল সামনের দিক থেকে ডান কাঁধের ওপর দিয়ে পেছনে যায়। জর্জেট বা শিফনের মতো পড়ে থাকা কাপড়ে এই স্টাইল সুন্দর দেখায়। কুঁচি নিভির মতোই গোছান, কিন্তু আঁচলটা সামনের দিকে একটু ছেড়ে রাখুন। অনুষ্ঠানে গহনা দেখাতে চাইলে এই ধরন মানানসই।
৩. বাঙালি ঢং: আটপৌরে ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানের জন্য
বাঙালি ধাঁচে অনেকেই কুঁচি ছাড়া বা কম কুঁচিতে শাড়ি পরেন, আর আঁচল কাঁধের ওপর দিয়ে এনে কখনো কোমরে জড়িয়ে নেন। এতে শাড়ি পরা সহজ হয় আর চলাফেরা আরামদায়ক থাকে। তাঁত বা সুতি শাড়িতে এই স্টাইল বেশ মানায়। এ ধরনের শাড়ি বাছাইয়ের গাইড আছে সুতি শাড়ি, তাঁত ও খাদি লেখায়।
৪. বেল্টসহ স্টাইল: আধুনিক আর স্থির
কোমরে একটা চওড়া বা সরু বেল্ট বেঁধে শাড়ি স্থির রাখা যায়। যাঁরা দিনভর বাইরে থাকেন বা বারবার শাড়ি ঠিক করতে চান না, তাঁদের জন্য এটা স্বস্তির। ভারী কাপড় বা পার্টির শাড়িতে বেল্ট একটা আলাদা লুক দেয়। বেল্টটা শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে বা ধাতব রঙে নিতে পারেন।
৫. কুঁচি করা আঁচল: দ্রুত তৈরি লুক
আগে থেকে আঁচলে সুন্দর করে কুঁচি করে কাঁধে পিন দিয়ে আটকে রাখলে সেটা আর বারবার সরে না। বিয়ে বা অনুষ্ঠানে দীর্ঘক্ষণ থাকতে হলে এই পদ্ধতি সুবিধার। পাড়ের কাজ বা আঁচলের নকশা দেখাতে চাইলে কুঁচি একটু চওড়া রাখুন।
ব্লাউজ ডিজাইনের আইডিয়া
একই শাড়ির সাথে ব্লাউজ বদলালে আলাদা লুক আসে। গলা আর হাতা দুটোই বিবেচনা করুন।
গলার ডিজাইন:
- গোল বা ইউ গলা: প্রায় সব শাড়ির সাথে মানায়।
- ভি গলা: মুখ লম্বাটে দেখায়, সুতি আর সিল্ক দুটোতেই সুন্দর।
- বোট গলা: কাঁধ চওড়া দেখায়, সাজগোজের জন্য ভালো।
- হাই নেক বা কলার: আরামদায়ক, ভারী গহনা না পরলেও চলে।
হাতার ডিজাইন:
- কনুই পর্যন্ত হাতা: অফিস ও ঘরোয়া অনুষ্ঠানে নিরাপদ পছন্দ।
- ফুল হাতা: শীতে আর আধা ঢাকা পোশাক পছন্দ করলে।
- ঝালর বা কুঁচি হাতা: উৎসবের সাজে আলাদা ছোঁয়া।
- হাতা ছাড়া বা পাতলা হাতা: গরমে আরাম, তবে নিজের স্বস্তি আগে দেখুন।
রঙের নিয়ম: শাড়ির রঙের সাথে মিলিয়ে বা তার বিপরীতে একটা কন্ট্রাস্ট রঙের ব্লাউজ বেছে নিতে পারেন। সাদামাটা শাড়িতে নকশা করা ব্লাউজ, আর ভারী কাজের শাড়িতে সাদামাটা ব্লাউজ সাধারণত ভারসাম্য আনে।
ব্লাউজের ফিটিং: যা মাথায় রাখবেন
- বুক, কোমর, কাঁধ আর হাতার মাপ একজন দর্জিকে দিয়ে নেওয়ানো ভালো।
- পিঠ বেশি কাটা হলে আরাম আর বিব্রতকর পরিস্থিতির কথা ভাবুন।
- সেলাইয়ের সময় ভেতরে একটু বাড়তি কাপড় রাখলে পরে মাপ বদলাতে পারবেন।
- নতুন ব্লাউজ ফিট করছে কি না, শাড়ি পরার আগেই একবার ঘুরেফিরে দেখুন।
কাপড় অনুযায়ী কোন স্টাইল বেছে নেবেন
শাড়ির কাপড় কেমন, সেটাও স্টাইলের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।
- সুতি ও তাঁত: শক্ত আর কুঁচি ধরে রাখে। নিভি বা বাঙালি ঢং ভালো মানায়।
- জর্জেট ও শিফন: পিছলা আর হালকা। সোজা আঁচল বা বেল্ট দিলে সামলানো সহজ হয়।
- সিল্ক ও কাতান: ভারী আর ঝলমলে। কুঁচি করা আঁচল আর সুন্দর বেল্টে এর জৌলুস ফোটে।
যে কাপড়ে শুরু করছেন, সেটা অনুযায়ী সেফটিপিনের সংখ্যা বাড়ান বা কমান। প্রথমবারে পুরো দিনের আগে ঘরে একবার পরে হেঁটে দেখে নিন, শাড়ি ঠিক থাকে কি না।
গহনা আর ব্যাগ কীভাবে মেলাবেন
শাড়ির সাথে গহনা বেছে নেওয়ার একটা সহজ নিয়ম আছে: শাড়ি ভারী হলে গহনা হালকা, শাড়ি সাদামাটা হলে গহনায় একটু জৌলুস। গলা গভীর হলে নেকলেস ছোট আর ঝুমকা বড় রাখলে ভারসাম্য থাকে। কাঁধে পরার ব্যাগ আঁচলের পিনের সাথে ঝামেলা করতে পারে, তাই হাতব্যাগ বা সরু স্ট্র্যাপের ব্যাগ সুবিধাজনক।
নতুনদের কিছু সাধারণ ভুল
- খুব পিছলা বা ভারী শাড়ি দিয়ে শুরু করা। প্রথমে সুতি বা হালকা কাপড়ে হাত পাকান।
- কুঁচি অসমান করা। প্রতিটি কুঁচি সমান রাখতে একটু ধৈর্য লাগে।
- আঁচল খুব ঢিলে রাখা। বাইরে গেলে সেফটিপিন ব্যবহার করুন।
- নিচের প্রান্ত মেঝে ছুঁয়ে যাওয়া। জুতো পরে মাপ নিন।
- ব্লাউজের হাতা বা গলা শাড়ির সাথে না মেলানো। পরার আগে একবার আয়নায় মিলিয়ে দেখুন।
- অনুষ্ঠানের আগের দিন প্রথমবার চেষ্টা করা। অন্তত একদিন আগে একবার পরে অভ্যাস করুন।
ShopeMart-এ কী পাবেন
পরীক্ষা করে দেখতে চাইলে ShopeMart-এর ডিজাইনার শাড়ি ক্যাটেগরি দেখতে পারেন। অনুষ্ঠানের জন্য পরামর্শ চাইলে পড়ুন গায়ে হলুদের শাড়ির আইডিয়া।
প্রায়ই করা প্রশ্ন
প্রথমবার শাড়ি পরতে কোন কাপড় সহজ?
সুতি বা হালকা তাঁত সবচেয়ে সহজ, কারণ এগুলো পিছলায় না আর কুঁচি ধরে রাখে।
শাড়ি বারবার খুলে যায়, কী করব?
কোমরে ঠিকমতো গুঁজছেন কি না দেখুন, আর কুঁচির নিচে ও আঁচলে সেফটিপিন ব্যবহার করুন। বেল্টও কাজে দেয়।
একই শাড়িতে কতভাবে লুক বদলানো যায়?
পরার স্টাইল, ব্লাউজ আর গহনা বদলালেই লুক অনেকটা আলাদা হয়। ওপরের পাঁচটা পদ্ধতির যেকোনোটা চেষ্টা করুন।
ব্লাউজের কোন গলা সবচেয়ে নিরাপদ?
গোল বা ইউ গলা প্রায় সব শরীরের গড়ন আর শাড়ির সাথে মানিয়ে যায়।






