ফ্যাশন গাইড

আবায়া বোরকা: পার্থক্য কী এবং কখন কোনটা পরবেন

আবায়া বোরকা: পার্থক্য কী এবং কখন কোনটা পরবেন
Share this post

আবায়া বোরকা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন: দুটি কি আলাদা পোশাক, নাকি একই জিনিসের দুই নাম? বাংলাদেশে অনেক সময় দুই শব্দ প্রায় একই অর্থে চলে, তবে কাটিং, ধরন আর ব্যবহারে কিছু পার্থক্য আছে। সেটা জানা থাকলে কেনার সময় ভুল হয় না, আর নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক পোশাকটা বেছে নেওয়া যায়।

আবায়া বোরকা: মূল পার্থক্য কোথায়

দুটোই লম্বা, ঢিলা ওপরের পোশাক। তফাতটা মূলত ধরন আর চলতি ব্যবহারে।

  • আবায়া: সাধারণত সামনে খোলা বা কোটের মতো, কখনো ঢিলা গাউনের মতো। নানা রং, কাপড় আর আধুনিক কাটিংয়ে পাওয়া যায়। আরব অঞ্চল থেকে আসা এই পোশাকের ধারণা এখন আমাদের এখানে ফ্যাশনেবল পোশাক হিসেবেও জনপ্রিয়।
  • বোরকা: আমাদের দেশে সাধারণত মাথা থেকে পা পর্যন্ত নামানো ঢিলা পোশাক, যার সঙ্গে প্রায়ই হিজাব বা ওড়না থাকে। গতানুগতিক ধাঁচ কালো বা গাঢ় রঙের, তবে এখন নানা ডিজাইনও আছে।

বাস্তবে বাজারে এই সীমারেখা অনেক সময় অস্পষ্ট। তাই নাম দেখে নয়, ছবি, কাটিং আর বিবরণ দেখে বাছাই করুন।

কাটিং ও গড়নে তফাত

  • সামনের অংশ: আবায়া প্রায়ই সামনে খোলা, বোরকা পুরো বন্ধ বা বোতাম দেওয়া হতে পারে।
  • ঘের: আবায়ায় ঢিলা, ভাসমান ভাব বেশি। বোরকায় সোজা, কুচি বা এ-লাইন দেখা যায়।
  • হাতা: আবায়ায় বেল স্লিভ বা ঢিলা হাতা বেশি দেখা যায়, বোরকায় সোজা বা কাফযুক্ত হাতা প্রচলিত।
  • আরাম: দুটোই ঢিলা, তাই গরমে হালকা কাপড় নিলে আরাম পাওয়া যায়।

কাপড় আর রঙের পার্থক্য

আবায়ায় জর্জেট, ক্রেপ আর নরম ঝরঝরে কাপড়ের ব্যবহার বেশি। রঙের দিকেও বৈচিত্র্য, যেমন নেভি, বাদামি, সবুজ, বেইজ বা পেস্টেল। বোরকায় নিদা বা মাঝারি ওজনের কাপড় আর কালো বা গাঢ় রংই বেশি চলে। অবশ্য এখন দুই ধরনেই রং আর কাপড়ের সীমা অনেক ঝাপসা হয়ে গেছে। কেনার সময় কাপড়ের নাম আর ধোয়ার নিয়ম দেখে নিন।

টু পিস আবায়া কী

টু পিস আবায়া বলতে সাধারণত দুটি অংশের সেট বোঝায়: ভেতরে একটি গাউন বা পোশাক, আর ওপরে খোলা আবায়া বা কোট। অনেক সময় সঙ্গে হিজাবও থাকে। এর সুবিধা হলো আলাদা আলাদা করে পরা যায়, ফলে একই সেট নানাভাবে ব্যবহার হয়। কেনার আগে বিবরণে দেখুন কোন কোন অংশ আছে, আর মাপ প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা কি না।

আবায়া ডিজাইন বা আবায়া ড্রেস খোঁজার সময় এই শব্দগুলো প্রায়ই একই ধরনের পোশাক বোঝাতে ব্যবহার হয়। তাই ছবিতে সামনের অংশ, হাতার ধরন আর দৈর্ঘ্য দেখে নিন, নাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। একই নামের পোশাকও দোকানভেদে আলাদা কাটিংয়ের হতে পারে।

কখন কোনটা পরবেন

  • অফিস বা ক্লাস: সাধারণ কাটের বোরকা বা হালকা রঙের সরল আবায়া, দুটিই ঠিক আছে।
  • বাজার বা ঘোরাফেরা: আরামদায়ক হালকা কাপড়ের বোরকা বা ঢিলা আবায়া।
  • অনুষ্ঠান বা দাওয়াত: এমব্রয়ডারি বা কাজ করা আবায়া, কিংবা কাজের হাতার বোরকা।
  • ঈদ বা বিশেষ দিন: উজ্জ্বল বা পেস্টেল রঙের আবায়া, সঙ্গে মানানসই হিজাব।
  • ভ্রমণ: সহজে ভাঁজ না পড়া, হালকা আর পকেটযুক্ত পোশাক বেশি সুবিধাজনক।

এসব কেবল সাধারণ ধারণা। কোনটা পরবেন, সেটা আপনার স্বাচ্ছন্দ্য আর পছন্দের ওপর নির্ভর করে।

আবায়া বোরকা কেনার আগে কী মিলিয়ে দেখবেন

  • ছবির পাশাপাশি দৈর্ঘ্য, বুক আর হাতার মাপ দেখুন।
  • কাপড়ের নাম, আস্তর আছে কি না আর ধোয়ার নিয়ম জেনে নিন।
  • সেটের মধ্যে ওড়না বা হিজাব আছে কি না, তা দেখুন।
  • কাজ বা পাথর বেশি হলে ওজন আর আরামের কথা ভাবুন।
  • দাম কাপড়, কাজ আর ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে, তাই এই তিনটি জিনিস মিলিয়ে তুলনা করুন।

প্রচলিত কিছু ভুল ধারণা

  • ধারণা: আবায়া মানেই ভারী আর জমকালো। বাস্তবে: সাদামাটা, হালকা আবায়াও পাওয়া যায়।
  • ধারণা: বোরকা মানেই একই ধরনের কালো পোশাক। বাস্তবে: এখন কাটিং, কাপড় আর কাজে অনেক বৈচিত্র্য আছে।
  • ধারণা: দাম বেশি মানেই ভালো। বাস্তবে: কাপড়, সেলাই আর ফিটিং মিলিয়ে দেখা বেশি কাজের।
  • ধারণা: ঢিলা পোশাকে মাপ না মিললেও চলে। বাস্তবে: হাতা আর দৈর্ঘ্য ঠিক না হলে চলাফেরায় অসুবিধা হয়।

প্রথমবার কিনছেন? ধাপে ধাপে সিদ্ধান্ত

  • ধাপ ১: কোথায় বেশি পরবেন, রোজকার কাজে না অনুষ্ঠানে, তা ঠিক করুন।
  • ধাপ ২: সামনে খোলা পছন্দ, না পুরো বন্ধ, ঠিক করুন। প্রথমবার হলে বোতামযুক্ত সামনের অংশ সুবিধাজনক।
  • ধাপ ৩: আবহাওয়া আর যাতায়াত ভেবে কাপড় বাছুন।
  • ধাপ ৪: মাপ মিলিয়ে সাইজ ঠিক করুন, আর সম্ভব হলে সামান্য ঢিলাটা নিন।
  • ধাপ ৫: ধোয়ার নিয়ম পড়ে নিন, যাতে রং আর কাজ দীর্ঘদিন ভালো থাকে।

আবায়া বোরকা ধোয়া ও যত্নের নিয়ম

জর্জেট বা নরম কাপড়ের আবায়া ধোয়ার সময় জোরে মোচড় দেবেন না। কাজ থাকলে উল্টো করে হালকা হাতে ধোয়া নিরাপদ। ছায়ায় শুকিয়ে ঝুলিয়ে রাখলে ভাঁজ কম পড়ে, আর দীর্ঘদিন ব্যবহারে না থাকলে সুতির ব্যাগে ভাঁজ ছাড়া রাখা ভালো। প্রতিটি কাপড়ের ধোয়ার নিয়ম আলাদা হতে পারে, তাই লেবেলের নির্দেশ মেনে চলাই নিরাপদ।

ছোট সারসংক্ষেপ: পার্থক্য এক নজরে

  • আবায়া সাধারণত আধুনিক, সামনে খোলা বা ভাসমান কাটের।
  • বোরকা সাধারণত গতানুগতিক ধাঁচের, সোজা বা কুচির।
  • দুটিই ঢিলা ও লম্বা, আর বাজারে নাম প্রায় একে অপরের জায়গায় ব্যবহার হয়।
  • বাছাইয়ের আসল মাপকাঠি হলো কাটিং, কাপড়, মাপ আর কোথায় পরবেন।

ShopeMart-এ কী পাবেন

ShopeMart-এর আবায়া ক্যাটেগরিতে নানা কাটিং আর কাপড়ের আবায়া দেখতে পারেন। ধরনভেদে আরও দেখতে চাইলে বোরকা ক্যাটেগরিতেও ঘুরে আসতে পারেন। নতুন বোরকার আইডিয়া চাইলে পড়ুন বোরকা ডিজাইন: নতুন ও স্টাইলিশ ১৫টি আইডিয়া, আর ঘরে বা অনুষ্ঠানে ঢিলা পোশাক খুঁজলে দেখুন কাফতান ও গাউন লেখা।

প্রায়ই করা প্রশ্ন

আবায়া আর বোরকা কি একই জিনিস?

সম্পূর্ণ একই নয়, তবে দুটোই লম্বা ঢিলা পোশাক। আবায়া সাধারণত সামনে খোলা বা আধুনিক ধাঁচের, আর বোরকা গতানুগতিক ঢাকা ধাঁচের। বাজারে দুই নামের ব্যবহার অনেক সময় মিশে যায়।

দৈনন্দিন কাজে কোনটা বেশি আরামদায়ক?

দুটোই আরামদায়ক হতে পারে, কাপড় আর মাপ ঠিক থাকলে। গরমে হালকা কাপড়ের ঢিলা আবায়া বা বোরকা বেছে নিন।

টু পিস আবায়া কেনার আগে কী দেখব?

কোন কোন অংশ আছে, প্রতিটির মাপ কেমন আর কাপড় কী, তা বিবরণে দেখুন। হিজাব সেটের মধ্যে আছে কি না, সেটাও জেনে নিন।

আবায়া বোরকা কেনার সময় সাইজ কীভাবে নির্বাচন করব?

নিজের একটি বসা পোশাকের দৈর্ঘ্য, বুক আর হাতা মেপে সাইজ তালিকার সঙ্গে মেলান। সামান্য ঢিলাটা নেওয়া সাধারণত নিরাপদ।

ShopeMart-এ কিনুন

আরও পণ্য দেখুন →