কাফতান কোন দিনে পরবেন আর গাউন কোন দিনে: পরিস্থিতি ধরে বেছে নিন

ধরুন, সকালে ঘুম ভাঙার পর মনে পড়ল দুপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত। ঘরের কাজও বাকি, আবার গরমও পড়েছে। আলমারি খুলে দেখছেন একদিকে ঢিলা কাফতান, অন্যদিকে ঘের দেওয়া গাউন, আর মাথায় ঘুরছে, কোনটা পরলে আরামও পাব, আবার গোছানোও দেখাবে? কাফতান নিয়ে এই দোটানা আসলে অনেকেরই হয়। তাই কাফতান আর গাউনের তালিকা না বানিয়ে আজ পরিস্থিতি ধরে ধরে বলি, কোন দিনে কোনটা।
আগে বুঝে নিন, দুটোর তফাত কোথায়
সোজা কথায়, কাফতান হলো ঢিলা, লম্বা পোশাক, যা কাঁধ থেকে সোজা নেমে আসে। কোমরে আলাদা সেলাইয়ের চাপ নেই, তাই শরীরে লেগে থাকে না। গলার কাছে এমব্রয়ডারি, লেস বা পাথরের কাজ থাকে বলেই এটা সাধারণ ঢিলা জামার চেয়ে আলাদা দেখায়।
গাউনের কোমরে বা বুকের নিচে সেলাই থাকে, নিচের অংশ প্রায়ই ঘের দেওয়া আর একটু ঝলমলে। তাই গাউন দেখতে বেশি আনুষ্ঠানিক। আর মাঝখানে আছে আবায়া গাউন, যা আবায়ার গড়নে তৈরি গাউন, সামনে খোলা বা বন্ধ দুই ধরনই হয়। অনেকে একে গাউন বোরকা ডিজাইন নামেও খোঁজেন।
ঘরে থাকলে কাফতান
ঘরের জন্য কাফতানের চেয়ে সুবিধার পোশাক কম আছে। বসতে-উঠতে আটকায় না, আর হঠাৎ অতিথি এলে বদলানোর ঝামেলাও নেই। শুধু কয়েকটা জিনিস দেখে নিন।
- কাপড় সুতি বা লন হলে ভালো, কারণ ঘাম শুষে নেয়।
- হাতা আর গলা এমন হোক, যাতে রান্নাঘরে কাজ করতে বাধা না হয়।
- দৈর্ঘ্য গোড়ালির একটু ওপরে রাখুন। মাটিতে লুটালে চলতে গিয়ে পায়ে জড়ায়।
- পকেট থাকলে ঘরের কাজে বেশ কাজে লাগে।
আর মজার কথা, ঘুমানোর সময়ও হালকা কাফতান অনেকে পছন্দ করেন। রাতের পোশাকের আরও ভাবনা চাইলে নাইট ড্রেস ও নাইটওয়্যার গাইডটা দেখে নিতে পারেন।
বাইরে বেরোলে কাফতান, না গাউন
অফিস, বাজার বা ঘোরাঘুরির দিনে আমার পরামর্শ কাফতানই। হাঁটাচলায় আরাম, রিকশা বা বাসে ওঠা-নামায় ঝামেলা কম। ঘন কাপড়ের কাফতানের ওপর ওড়না বা হিজাব নিয়ে অনেকে এভাবেই বেরোন। আবায়া বা বোরকার বদলে এটা পরবেন কি না, সেটা পুরোই আপনার পছন্দ। যেটায় স্বস্তি লাগে, সেটাই ঠিক।
ভ্রমণে তো কাফতান আরও সুবিধার। ভাঁজ করে ব্যাগে ঢোকানো যায়, আর সুতি বা জর্জেট হলে ভাঁজ বেশি পড়ে না।
দাওয়াত বা ঈদের দিনে
এখানে গাউন আর সাজানো কাফতান দুটোই চলে। একটু সাজ যোগ করলেই চেহারা বদলে যায়।
- গলায় কাজ থাকলে বড় নেকলেস পরবেন না। গয়না কম রাখলে ডিজাইনটাই চোখে পড়ে।
- ঢিলা কাফতানে কোমরে পাতলা বেল্ট দিলে আকার ফুটে ওঠে।
- ওড়না বা হিজাবের রঙ পোশাকের সঙ্গে মেলান।
- জুতো সাধারণ স্যান্ডেল বা ফ্ল্যাট হলেই চলে, সঙ্গে ছোট একটা ব্যাগ। বেশি ভারী কিছু আরামটাই নষ্ট করে দেয়।
আমার মনে হয় আনুষ্ঠানিক ভাব চাইলে গাউন, আর সহজ অথচ গোছানো কিছু চাইলে কাজ করা কাফতান বেছে নিন।
গরমে কাফতান, শীতে কী
কাপড়ই এখানে আসল কথা। একই কাটের পোশাকও কাপড় বদলালে একেবারে আলাদা অনুভূতি দেয়।
- সুতি বা লন: হালকা, শ্বাস নেওয়ার মতো কাপড়। গরমে রোজকার জন্য সবচেয়ে আরামের, ধোয়াও সহজ।
- জর্জেট ও শিফন: ঝরঝরে আর হালকা, অনুষ্ঠানে সুন্দর দেখায়। তবে ভেতরে আলাদা আস্তর বা ইনার লাগতে পারে।
- লিনেন: গরমের জন্য অনেকের প্রিয়, কিন্তু সহজে ভাঁজ পড়ে।
- ভেলভেট বা মোটা কাপড়: শীতের জন্য মানানসই। গরমে অস্বস্তি হবে।
শীতের দিনে কাফতান বাদ দিতে হবে, এমন নয়। ভেতরে হাতাওয়ালা ইনার বা গরম জামা পরে ওপরে মোটা কাপড়ের কাফতান নিলেই হয়।
মাপ নিয়ে ভয় পাবেন না, তবে ফিতা হাতে নিন
কাফতান ঢিলা, তাই মাপ ভুল হওয়ার ভয় কম। তবু অনলাইনে কেনার আগে তিনটা মাপ নিজের কাছে লিখে রাখুন।
- বুকের মাপ। ঢিলা ফিট চাইলে নিজের মাপের চেয়ে এক ধাপ বড় দেখুন।
- কাঁধ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত দৈর্ঘ্য, ফিতা দিয়ে মেপে।
- কাঁধ থেকে কবজি পর্যন্ত হাতার দৈর্ঘ্য।
কিছু কাফতান ফ্রি সাইজে আসে। সে ক্ষেত্রে বিবরণে বুকের মাপ আর দৈর্ঘ্য কত লেখা আছে, সেটা মিলিয়ে নিন।
কেনার সময় নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন
পছন্দের কাফতান বা গাউন চোখে পড়লেই কার্টে তুলে ফেলার আগে একটু থামুন।
প্রথম প্রশ্ন, সবচেয়ে বেশি কোথায় পরব? ঘরে, অফিসে নাকি দাওয়াতে, এটাই ঠিক করে দেবে কাপড় কেমন হবে আর কাজ কতটা থাকবে। বেশি কাজ থাকলে পোশাকটা অনুষ্ঠানের জন্য ভালো, রোজ ধুতে গেলে কাজ নষ্ট হতে পারে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, কাপড় পাতলা হলে ভেতরে আস্তর আছে কি না। না থাকলে আলাদা ইনার কিনতে হবে, সেটা আগে থেকে হিসাবে রাখুন।
তৃতীয় প্রশ্ন, রঙ কেমন? গাঢ় রঙে দাগ কম বোঝা যায়, আর হালকা রঙ গরমে চোখে আর গায়ে দুটোতেই আরামের। ছবির সঙ্গে আসল রঙ হুবহু না-ও মিলতে পারে, তাই বিবরণ আর গ্রাহকের ছবি থাকলে সেটাও দেখে নিন।
কেনার পর যদি মনে হয় পোশাকটা একটু বেশিই ঢিলা, ভাববেন না। কোমরে বেল্ট বা ফিতা দিয়ে নিলেই চলে। উল্টো দিকে, বেশি টাইট হলে ঢিলা কাটের মজাটাই থাকে না, তাই মাপের সময় এক ধাপ বড়টাই নিরাপদ।
কিনবেন যখন, ধোবেন যখন
এমন কিছু খুঁজলে ShopeMart-এর কাফতান ক্যাটাগরিতে নানা কাপড় আর ডিজাইনের কাফতান ও গাউন-ধাঁচের পোশাক দেখতে পারেন। আরও ঢিলেঢালা পোশাক দেখতে চাইলে আবায়া ক্যাটাগরি আছে, আর আবায়া আর বোরকার পার্থক্য নিয়ে এই লেখাটা কাজে লাগবে। দাম কত হবে, তা নির্ভর করে কাপড়, কাজ আর ডিজাইনের ওপর, তাই পছন্দ করার আগে এই তিনটা মিলিয়ে দেখুন।
কেনা হয়ে গেলে যত্নের দিকটা ভুলবেন না, নইলে কাপড় তাড়াতাড়ি পুরোনো দেখায়।
- লেবেলে ধোয়ার নির্দেশ থাকলে সেটাই মানুন। প্রথমবার আলাদা ধুয়ে নিন, কারণ রঙ ছাড়তে পারে।
- এমব্রয়ডারি বা পাথরের কাজ থাকলে উল্টো করে হাতে আলতো ধুন।
- শিফন বা জর্জেট জোরে নিংড়াবেন না, ছায়ায় শুকাতে দিন।
- ইস্ত্রি করবেন উল্টো পিঠে বা পাতলা কাপড়ের ওপর দিয়ে, কাজের অংশে সরাসরি নয়।
- ঝুলিয়ে রাখলে চওড়া হ্যাঙ্গার নিন, নইলে কাঁধের কাছে দাগ পড়তে পারে।
দু-একটা প্রশ্ন, যা প্রায়ই শুনি
কাফতান কি সব বয়সে পরা যায়?
হ্যাঁ, কাটটাই ঢিলা আর আরামের, তাই বয়সের বাধা নেই বললেই চলে। কাপড়, রঙ আর কাজ বেছে নিলেই বয়স আর অনুষ্ঠানের সঙ্গে মানিয়ে যায়।
কাফতান আর আবায়া কি একই জিনিস?
না, তবে দেখতে মিল থাকতে পারে। আবায়া সাধারণত সামনে খোলা বা বন্ধ লম্বা পোশাক, আর কাফতান ঢিলা কাটের এবং গলার কাজের জন্য বেশি পরিচিত।
অনলাইনে কাফতান কেনার সময় সবচেয়ে আগে কী দেখব?
কাপড়ের নাম, দৈর্ঘ্য আর হাতার মাপ। ফ্রি সাইজ হলে বুকের মাপ লেখা আছে কি না, সেটাও দেখে নিন। এই কয়টা মিললে ভুল কেনার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।







