Become a VendorBecome a Reseller
ফ্যাশন গাইড

বিয়ের শাড়ি কেনার আগে নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন: বেনারসি, কাতান নাকি জামদানি

বিয়ের শাড়ি কেনার আগে নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন: বেনারসি, কাতান নাকি জামদানি
Share this post

ধরুন, বিয়ের তারিখ ঠিক হয়ে গেছে, আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছেন কোন শাড়িটা নেবেন। কেউ বলছে বেনারসি ছাড়া বিয়ে হয় না, কেউ বলছে কাতানই ভালো, আবার কেউ জামদানির নাম নিচ্ছে। বিয়ের শাড়ি নিয়ে এই গোলমালে প্রায় সবাই পড়েন। আসলে তিনটার কোনোটাই ভুল পছন্দ নয়। ভুলটা হয় তখন, যখন নিজের অবস্থা না ভেবেই দোকানে ঢুকে পড়া হয়।

তাই দোকানে যাওয়ার আগে নিজেকে তিনটা প্রশ্ন করুন।

প্রথম প্রশ্ন: বাজেট কত, আর শাড়ির বাইরে কত যাবে?

শাড়ির বাজেট ঠিক করার সময় একটা জিনিস সবাই ভুলে যান। ব্লাউজ সেলাই, ফল-পিকো, গয়না আর সাজ, সব মিলিয়েই কিন্তু বিয়ের খরচ। শাড়িতে পুরোটা ঢেলে দিলে পরে ব্লাউজ নিয়ে হাত টানতে হয়, আর সেটা মোটেই ভালো না।

বিয়ের শাড়ি দাম নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলব না, কারণ দাম নির্ভর করে সুতা, কাজ আর নকশার ওপর। বরং এইভাবে ভাবুন:

  • হাত টানাটানি থাকলে: জমকালো দেখাতে ভারী শাড়িই লাগে না। সফট কাতান বা হালকা জরির শাড়ি নিয়ে ব্লাউজ আর গয়নায় বিয়ের আবহ আনা যায়।
  • মাঝামাঝি বাজেটে: এখানে বাছার সুযোগ সবচেয়ে বেশি। ভালো কাতান বা জামদানি নিতে পারেন, যেটা বিয়ের পরেও পরার মতো।
  • বড় বাজেটে: ভারী বেনারসি বা ঘন নকশার জামদানি দেখতে পারেন। তখন সুতা, কাজ আর কারিগরির তথ্য আরও খুঁটিয়ে মিলিয়ে নেবেন।

আমার পরামর্শ: যে বাজেটই হোক, একই সুতা আর একই কাজের দুটো শাড়ি পাশাপাশি রেখে তুলনা করুন। শুধু নাম আর ছবি দেখে ভোলা চলবে না।

দ্বিতীয় প্রশ্ন: দিনটা কেমন, আর কতক্ষণ পরে থাকতে হবে?

আকদ, বিয়ে, রিসেপশন বা বৌভাত, একেক অনুষ্ঠানের আবহ একেক রকম। আর গরমের দিনে ঘণ্টা-পাঁচেক ভারী শাড়ি জড়িয়ে বসে থাকা যে কী ঝামেলা, যাঁরা করেছেন তাঁরা জানেন। শীতে অবশ্য এই সমস্যা কম।

তাই এখানেই তিন শাড়ির স্বভাবটা কাজে লাগে।

তিন শাড়ির স্বভাব, সোজা কথায়

বিয়ের বেনারসি শাড়ি ঘন বুনন আর জরির কাজের জন্য পরিচিত, আর বিয়ের দিনে এর একটা আলাদা ঐতিহ্যের আবহ আছে। তবে ওজন বেশি, তাই বেশিক্ষণ পরলে ক্লান্তি আসতে পারে। একটা কথা মাথায় রাখবেন: বাজারে বেনারসি নামে নানা মানের শাড়ি পাওয়া যায়। নামের চেয়ে বিবরণে সুতা আর জরির কথা কী লেখা আছে, সেটাই ভরসা।

কাতান সাধারণত সিল্কের সুতায় বোনা, ঘন আর মসৃণ। ভারী কাতান বড় অনুষ্ঠানে বেশ ঝলমলে দেখায়। আর সফট কাতান পাতলা ও নরম, তাই দীর্ঘ সময় পরতেও আরাম লাগে। কাতানের ধরন আর যত্নের খুঁটিনাটি কাতান শাড়ি কেনার গাইডে আলাদা করে লেখা আছে।

জামদানি হাতে বোনা, নকশা বুননের সঙ্গেই ওঠে। এটা বেনারসির চেয়ে হালকা, বাতাস চলাচলও ভালো। যাঁরা জমকের চেয়ে মার্জিত ভাব পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য জামদানি ভারি সুন্দর বিকল্প। কেনার আগে আসল-নকল বোঝার উপায় জানতে চাইলে দেখুন জামদানি শাড়ি চেনার গাইড।

মোটামুটি হিসাব করলে: গরমের দিনে জামদানি বা সফট কাতান আরামের, আর ঝলমলে বড় আয়োজনে বেনারসি বা ভারী কাতান মানানসই। যত্নের বেলায় তিনটাকেই সাবধানে রাখতে হয়, আর জরির কাজ থাকলে ড্রাই ক্লিন সাধারণত নিরাপদ।

তৃতীয় প্রশ্ন: শাড়িটা পরে আবার পরবেন তো?

এই প্রশ্নটা সবচেয়ে কম জিজ্ঞেস করা হয়, অথচ সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে। একবার পরার জন্য কিনলে ভারী বেনারসিতে মন ভরে যেতে পারে। কিন্তু বিয়ের পরেও আত্মীয়ের বিয়ে, ঈদ বা দাওয়াতে পরার ইচ্ছা থাকলে সফট কাতান বা হালকা জামদানি অনেক বেশি কাজে আসে। ভারী বেনারসি সাধারণত বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্যই তোলা থাকে।

মজার কথা হলো, তিন প্রশ্নের উত্তর মিলিয়ে দেখলেই বেশির ভাগ সময় পছন্দের তালিকা নিজে থেকেই ছোট হয়ে আসে। তিনটার একটাও না মিললে বুঝবেন বাজেট বা অনুষ্ঠানের হিসাবে কোথাও একটু বদল দরকার, আর সেটা দোকানে গিয়ে নয়, ঘরে বসেই ঠিক করে ফেলা ভালো।

মেরুন কালার বিয়ের শাড়ি, নাকি অন্য কিছু?

লাল আর মেরুন বিয়ের শাড়ির চিরচেনা রঙ। মেরুন কালার বিয়ের শাড়ি অনেকের প্রিয়, কারণ এটা লালের মতো ঝাঁঝালো না হয়েও জমকালো। তবে এই দুই রঙের বাইরেও পথ আছে:

  • গাঢ় সবুজ বা নীল: একটু আলাদা, আভিজাত্যের ছোঁয়া দেয়।
  • সোনালি বা অফ-হোয়াইট: আকদ বা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে সূক্ষ্ম লুক আনে।
  • পিচ বা প্যাস্টেল: রিসেপশনে হালকা, আধুনিক আবহ।

রঙ বাছাই করবেন দোকানের উজ্জ্বল বাতিতে নয়, দিনের আলোয়। আর শাড়িটা নিজের গায়ের পাশে ধরে দেখে নিন।

বিয়ের শাড়ির ব্লাউজ আর গয়না, সবাই এখানেই হোঁচট খায়

শাড়ি যত সুন্দরই হোক, ব্লাউজ ঠিকমতো না বসলে সব নষ্ট। তাই ব্লাউজের ডিজাইন আর সেলাইয়ের জন্য আলাদা সময় রাখুন। ভারী শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ একটু হালকা রাখা ভালো, আর সাদামাটা শাড়িতে ব্লাউজে কাজ বা অন্য রঙ আনা যায়। গয়নাতেও এই নিয়ম: শাড়ির কাজ ঘন হলে গলার গয়না সাদামাটা, আর শাড়ি হালকা হলে ভারী সেট। শাড়ি আগে ঠিক করে ফেললে বাকি সব মেলানো অনেক সহজ হয়। শাড়ি, ব্লাউজ আর গয়না, তিনটাকে একসঙ্গে ভাবলে শেষ মুহূর্তের হুড়োহুড়িও কমে। কনের সাজ অবশ্য আলাদা বিষয়, সেটা সাজের মানুষের সঙ্গে আগেভাগে কথা বলে নিন।

বিয়ের শাড়ি কেনার আগে শেষবার দেখে নিন

  • শাড়ির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ আর ব্লাউজ পিসের মাপ।
  • জরি ও সুতার ধরন, আর বিবরণের সঙ্গে আসল পণ্যের মিল।
  • উল্টো পিঠ গোছানো আর বুনন সমান কি না।
  • অনলাইনে কিনলে পরিষ্কার ছবি, ক্লোজ-আপ আর বিবরণ।
  • পছন্দ না হলে কী ব্যবস্থা, সেটা কেনার আগেই জেনে নিন।

আর শাড়ি বিয়ের বেশ কিছুদিন আগেই হাতে নিয়ে নিন, যাতে ব্লাউজ বা ফল-পিকো করার সময় থাকে। এমন বিয়ের শাড়ি কালেকশন ঘেঁটে দেখতে চাইলে ShopeMart-এর ডিজাইনার শাড়ি ক্যাটেগরিতে দেখতে পারেন। বিয়ের আগের গায়ে হলুদের শাড়ির আইডিয়া লাগলে আছে গায়ে হলুদের শাড়ির ১০টি আইডিয়া।

দু-একটা প্রশ্ন, যা প্রায়ই আসে

বিয়ের জন্য তিনটার মধ্যে কোনটা সবচেয়ে ভালো?

সবার জন্য একটা উত্তর নেই। জমকালো লুক চাইলে বেনারসি বা ভারী কাতান, আর হালকা মার্জিত লুক চাইলে জামদানি বা সফট কাতান। বাজেট, দিন আর পরে আবার পরার কথা ভেবে বেছে নিন।

গরমের সময় বিয়ে হলে কোন শাড়ি নেব?

হালকা কিছু নিন, যেমন সফট কাতান বা জামদানি। ভারী বেনারসিই চাইলে ঘণ্টা কয়েকের বেশি না পরে থাকা যায় কি না, আগে ভেবে নিন।

বিয়ের শাড়ি তুলে রাখব কীভাবে?

নরম সুতির কাপড়ে মুড়ে শুকনো জায়গায় রাখুন, আর মাঝেমধ্যে ভাঁজ বদলে দিন। জরির কাজ থাকলে ড্রাই ক্লিনই সাধারণত নিরাপদ।

ShopeMart-এ কিনুন

আরও পণ্য দেখুন →