নাইট ড্রেস বাছাইয়ের গাইড: কাপড়, মাপ ও আরামদায়ক নাইটওয়্যার

সারা দিনের পর ঘরে ফিরে সবাই চান আরামে থাকতে। কিন্তু অনেকেই বাইরের পোশাকে যত যত্ন নেন, ঘরের পোশাকে তত নেন না। অথচ রাতের ঘুম আর ঘরের কাজ, দুটোই আরামদায়ক পোশাকের ওপর অনেকটা নির্ভর করে। নাইট ড্রেস বাছার সময় সবার আগে দেখা উচিত কাপড় আর মাপ, নকশা তার পরে।
নাইট ড্রেস কেন আরামকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত
শোবার পোশাক শরীরে আটকে থাকলে, গলায় বা বগলে টান ধরলে বা ঘুমের মধ্যে গুটিয়ে উঠে গেলে ঘুমে ব্যাঘাত হতে পারে। তাই নাইট ড্রেস কেনার সময় প্রশ্ন করুন: এটা পরে কি আমি অনেকক্ষণ স্বচ্ছন্দে নড়াচড়া করতে পারব? উত্তর হ্যাঁ হলে এগোন।
নাইটওয়্যারের জনপ্রিয় ধরন
- নাইটি বা ম্যাক্সি: এক টুকরার ঢিলেঢালা পোশাক, ঘরে ও রাতে সবচেয়ে প্রচলিত। পরা সহজ।
- গাউন ধাঁচের নাইট ড্রেস: একটু বেশি ঘেরওয়ালা, দেখতে সুন্দর। অতিথি এলে সামলে নেওয়াও সহজ।
- দুই-টুকরো সেট: ঢিলা টপ আর পায়জামা বা প্যান্ট। শীতে আর যাঁরা ঘুমের মধ্যে ঘন ঘন পাশ ফেরেন, তাঁদের জন্য সুবিধাজনক।
- কাফতান ধাঁচের পোশাক: ঢিলা আর হালকা, গরমের দিনে স্বস্তিদায়ক। এ নিয়ে আলাদা লেখা আছে কাফতান ও গাউনের গাইডে।
- সামনে বোতাম বা জিপওয়ালা নাইটি: সন্তানকে খাওয়ানোর সময় বা অসুস্থ অবস্থায় পরতে অনেকের সুবিধা হয়।
কাপড় বাছার সহজ নিয়ম
নাইট ড্রেস দীর্ঘক্ষণ ত্বকের সংস্পর্শে থাকে, তাই কাপড়ই এখানে মূল বিষয়।
- সুতি: ঘাম টানে আর বাতাস চলাচল করতে দেয়, তাই বাংলাদেশের গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় সাধারণত সবচেয়ে আরামদায়ক।
- নরম মিশ্র কাপড়: সুতির সঙ্গে অন্য সুতো মেশানো কাপড় দেখতে মসৃণ হয়, ধোয়ার পর ভাঁজও কম পড়ে। তবে মিশ্রণ বেশি হলে গরমে অস্বস্তি বাড়তে পারে।
- সাটিন বা চকচকে কাপড়: দেখতে সুন্দর, কিন্তু গরমে অনেকের কাছে গুমোট লাগে। শীতকালে বা এসি ঘরে ভালো মানিয়ে যায়।
- ওমযুক্ত কাপড়: শীতের রাতে কাজে দেয়, তবে নরমতা হাতে ছুঁয়ে বা বিবরণ পড়ে নিন।
পণ্যের বিবরণে কাপড়ের নাম ও গঠন লেখা আছে কি না, দেখে নিন। না থাকলে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন।
মাপ ঠিক রাখুন
নাইট ড্রেস ঢিলা হওয়া ভালো, কিন্তু অতিরিক্ত বড় হলে ঘুমের মধ্যে জড়িয়ে যেতে পারে।
- বুক বা বাস্টের মাপ নিয়ে বিক্রেতার সাইজ তালিকার সঙ্গে মেলান।
- দৈর্ঘ্য কতটা চান, তা আগে ঠিক করুন। হাঁটুর নিচ পর্যন্ত নাকি পা পর্যন্ত লম্বা, দুটোর সুবিধা আলাদা।
- হাতার ধরন দেখে নিন। অনেকে হাতাকাটা পছন্দ করেন গরমে, আর শীতে লম্বা হাতা।
- আগে থেকে পরা একটা ভালো ফিটিংয়ের নাইটি থাকলে সেটা মেপে তুলনা করুন।
- যাঁরা বছরের পর বছর একই সাইজ নেন, তাঁরাও নতুন পণ্যে সাইজ তালিকা একবার দেখে নিন। এক বিক্রেতার এম আরেকজনের এমের মতো নাও হতে পারে।
গর্ভাবস্থা, সন্তান জন্মের পর বা অসুস্থতায়
এই সময়গুলোয় শরীরের মাপ আর প্রয়োজন বদলে যায়। ঢিলা, নরম কাপড়ের নাইটি তখন বেশি কাজে আসে, যেখানে পেটের ওপর চাপ লাগে না। সামনে বোতামওয়ালা ধরন অনেকের কাছে সুবিধাজনক। এ নিয়ে আপনার নির্দিষ্ট কোনো স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ঋতু বুঝে নাইট ড্রেস
গরমে হালকা, ঢিলা সুতি আর ছোট বা মাঝারি দৈর্ঘ্য ভালো। বর্ষায় এমন কাপড় বেছে নিন, যা সহজে শুকায়। শীতে লম্বা হাতার দুই-টুকরো সেট বা মোটা কাপড়ের গাউনে আরাম পাওয়া যায়। একটা মাত্র ধরনে আটকে না থেকে দুই-তিনটা ধরনের নাইটওয়্যার রাখলে ধোয়ার সময়ও সুবিধা হয়। ঘরের কাজে নাইটি পরে থাকলে রান্নাঘরে খেয়াল রাখুন, লম্বা হাতা বা ঝুলে থাকা ঘের যেন চুলার আগুনের কাছে না যায়।
অতিথি এলে ঘরের পোশাক কেমন হবে
ঘরে অতিথি এলে অনেক সময় পোশাক বদলাতে হয়। যে নাইটওয়্যার একটু গোছানো, ছিটকে-পড়া না, তা দিয়ে কাজ চালানো সহজ। ম্যাক্সি ধাঁচের পোশাক বা ওড়নার সঙ্গে পরার মতো নাইটি এ ক্ষেত্রে কাজে লাগে। তবে নাইট ড্রেস আর বাইরের পোশাক মিশিয়ে ফেলার দরকার নেই, দুটোর জন্য আলাদা সেট রাখুন।
উপহার হিসেবে নাইট ড্রেস দিলে
মা, বোন বা নতুন বউকে উপহার দেওয়ার জন্য নাইট ড্রেস অনেকেই বেছে নেন। এ ক্ষেত্রে নকশার চেয়ে সাইজ আর আরামের দিকটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপকের আগের পরা পোশাকের মাপ জেনে নিন, না জানলে ঢিলেঢালা ধাঁচ বেছে নিন, যা এক-দুই মাপের তফাতেও চলে। রঙ হিসেবে ফিকে, নরম রঙ সাধারণত সবার কাছেই মানানসই।
কেনার আগে দেখে নেওয়ার তালিকা
- কাপড় ও গঠনের নাম লেখা আছে কি না।
- সেলাই, গলা আর হাতার কিনারা নরম কি না। খসখসে সেলাই রাতভর অস্বস্তি দেয়।
- ছবির রঙ আর আসল রঙ কাছাকাছি কি না। স্ক্রিনে রঙ একটু আলাদা দেখাতে পারে।
- সাইজ তালিকায় আপনার মাপ পড়ছে কি না।
- ধোয়ার নির্দেশনা সহজ কি না।
- গলা খুব নিচু বা খুব আঁটসাঁট কি না, ঘরে সবার সামনে পরতে স্বচ্ছন্দ লাগবে কি না।
দাম নির্ভর করে কাপড়, সেলাই ও ডিজাইনের ওপর। শুধু দাম না দেখে কাপড়ের মান আর মাপের সুবিধা পাশাপাশি তুলনা করুন।
ধোয়া ও যত্ন
- নাইট ড্রেস ত্বকের পাশে থাকে, তাই ঘাম আর তেল জমে। সপ্তাহে কয়েকবার ধোয়া ভালো।
- হালকা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত ঝাঁঝালো সাবানে ত্বক চুলকাতে পারে।
- সাটিন বা পাতলা কাপড় হাতে আলতো করে ধোয়া নিরাপদ।
- প্রথমবার পরার আগে একবার ধুয়ে নিন। নতুন কাপড়ে অনেক সময় রঙ বা মাড়ের অবশিষ্ট থাকে, যা ত্বকে অস্বস্তি দিতে পারে।
- ছায়ায় বা বাতাসে শুকালে কাপড়ের নরমতা ভালো থাকে।
- কয়েকটা সেট পালা করে ব্যবহার করুন, তাতে সেগুলো বেশিদিন টেকে।
ShopeMart-এ কী পাবেন
ShopeMart-এর নাইটওয়্যার ক্যাটাগরিতে ঘরে ও রাতে পরার নানা ধরনের পোশাক দেখতে পারবেন। কাপড় আর মাপ দেখে বেছে নিন। হালকা, ঢিলা পোশাকের পছন্দ থাকলে কাফতান ক্যাটাগরিও এক নজর দেখে নিতে পারেন।
প্রায়ই করা প্রশ্ন
গরমের দিনে কোন নাইট ড্রেস সবচেয়ে আরামদায়ক?
সাধারণত ঢিলা, হালকা সুতির নাইট ড্রেস গরমে বেশি আরামদায়ক, কারণ সুতি ঘাম টানে আর বাতাস চলতে দেয়।
নাইটি আর দুই-টুকরো নাইটওয়্যারের মধ্যে কোনটা ভালো?
এটা ব্যক্তিগত পছন্দ। নাইটি পরা সহজ আর ঘরের কাজে স্বচ্ছন্দ। যাঁরা ঘুমের মধ্যে অনেক নড়েচড়ে ঘুমান, তাঁদের কাছে দুই-টুকরো সেট সুবিধাজনক মনে হতে পারে।
নাইট ড্রেস কতদিন পরপর বদলানো উচিত?
নির্দিষ্ট সময় নেই। কাপড় পাতলা হয়ে গেলে, ছিঁড়ে গেলে বা ধুয়েও গন্ধ না গেলে বদলে ফেলুন।
সাটিনের নাইট ড্রেস কি গরমে পরা যায়?
পরা যায়, তবে অনেকে গরমে সাটিন গুমোট মনে করেন। এসি ঘরে বা শীতে সাটিন বেশি স্বস্তি দিতে পারে।






