বিউটি গাইড

ফেস ওয়াশ কীভাবে বাছবেন: ত্বক অনুযায়ী সহজ গাইড (Face Wash Guide)

ফেস ওয়াশ কীভাবে বাছবেন: ত্বক অনুযায়ী সহজ গাইড (Face Wash Guide)
Share this post

ফেস ওয়াশ কীভাবে বাছবেন, এই প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি আসে, কারণ স্কিনকেয়ারের প্রথম ধাপটাই মুখ পরিষ্কার করা। ভুল ফেস ওয়াশে মুখ টানটান হয়ে যেতে পারে, আবার খুব হালকা কিছু বেছে নিলে তেল আর ময়লা ঠিকমতো উঠে না। এখানে ত্বকের ধরন, ফেস ওয়াশের ধরন আর লেবেল পড়ার সহজ উপায় দেওয়া হলো, যাতে দোকানে বা অনলাইনে বেছে নিতে সুবিধা হয়।

ফেস ওয়াশ কেন দরকার

দিনভর মুখে ধুলো, ঘাম আর ত্বকের নিজের তেল জমে। সানস্ক্রিন বা মেকআপ লাগালে সেটাও মুখে থাকে। শুধু পানিতে এগুলো পুরোপুরি ওঠে না, তাই একটা মৃদু ফেস ওয়াশ ব্যবহার করা হয়।

সাধারণত দিনে দুবার, সকালে আর রাতে, মুখ ধোয়া যথেষ্ট। অনেকে দিনে চার-পাঁচবার ফেস ওয়াশ ব্যবহার করেন, কিন্তু বেশি ধুলে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। ঘাম বেশি হলে শুধু পানিতে ধুয়ে নেওয়া যায়।

আগে নিজের ত্বকের ধরন জানুন

ফেস ওয়াশ বাছার আগে জানা দরকার আপনার ত্বক কেমন। এটা বুঝতে না পারলে ত্বকের ধরন কীভাবে চিনবেন গাইডটা দেখে নিন, ঘরে বসে ৩০ মিনিটে করা যায়।

সংক্ষেপে পাঁচটা ধরন: সাধারণ, তৈলাক্ত, শুষ্ক, মিশ্র আর সংবেদনশীল। মুখ ধোয়ার আধা ঘণ্টা পরে ত্বক কেমন লাগে সেটাই সবচেয়ে ভালো ইঙ্গিত।

ত্বক অনুযায়ী কেমন ফেস ওয়াশ দেখবেন

  • তৈলাক্ত ত্বক: জেল বা ফোমিং ধরনের ফেস ওয়াশ সাধারণত বেশি মানায়, কারণ এগুলো বাড়তি তেল সহজে তোলে। তবে খুব ঝাঁঝালো বা ত্বক টানটান করে দেয় এমন কিছু এড়িয়ে চলা ভালো।
  • শুষ্ক ত্বক: ক্রিমি বা হাইড্রেটিং ফেস ওয়াশ দেখুন। ধোয়ার পর মুখ টান ধরলে বুঝবেন ফেস ওয়াশটা বেশি কড়া।
  • মিশ্র ত্বক: কপাল-নাকে তেল আর গালে স্বাভাবিক থাকলে মাঝামাঝি, মৃদু জেল ফেস ওয়াশ ভালো কাজ করে।
  • সংবেদনশীল ত্বক: সুগন্ধহীন, মৃদু ফর্মুলার ফেস ওয়াশ বেছে নিন। নতুন কিছু ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় প্যাচ টেস্ট করুন।
  • সাধারণ ত্বক: বেশিরভাগ মৃদু ফেস ওয়াশেই চলে। নিজের পছন্দ আর আরামই এখানে মাপকাঠি।

জেল, ফোম, ক্রিম আর বাম: কোনটা কেমন

  • জেল ক্লিনজার: স্বচ্ছ ও হালকা, সহজে ধুয়ে যায়। তৈলাক্ত ও মিশ্র ত্বকে জনপ্রিয়।
  • ফোমিং ক্লিনজার: পানি মেশালে ফেনা হয়, মুখ ঝরঝরে লাগে। রোজকার ব্যবহারের জন্য সুবিধাজনক।
  • ক্রিম ক্লিনজার: ঘন ও নরম, ধোয়ার পর আরাম লাগে। শুষ্ক ত্বকের জন্য ভালো।
  • ক্লিনজিং বাম বা অয়েল: সানস্ক্রিন বা মেকআপ তোলার জন্য। অনেকেই রাতে প্রথমে এটা দিয়ে মুখ মুছে তারপর সাধারণ ফেস ওয়াশ ব্যবহার করেন, একে ডাবল ক্লিনজিং বলে।

লেবেলে কী দেখবেন

  • পিএইচ (pH): ত্বকের কাছাকাছি, মৃদু পিএইচের কথা লেখা থাকলে সাধারণত নরম ব্যবহার বোঝায়।
  • সুগন্ধ ও অ্যালকোহল: সংবেদনশীল ত্বকে এগুলো জ্বালা করতে পারে, তাই সুগন্ধহীন বিকল্প দেখুন।
  • অ্যাসিডযুক্ত ফেস ওয়াশ: স্যালিসাইলিক বা গ্লাইকোলিক অ্যাসিডের মতো উপাদান থাকলে প্রথমে দু-তিন দিন পরপর ব্যবহার করে ত্বকের প্রতিক্রিয়া দেখুন।
  • দাবিতে ভরসা সীমিত রাখুন: "ব্রাইটেনিং" বা "হোয়াইটেনিং" লেখা থাকলেই দ্রুত ফল আশা করবেন না। ফেস ওয়াশ মুখ পরিষ্কার করে, বাকি যত্ন আসে সিরাম, ময়েশ্চারাইজার ও সানস্ক্রিন থেকে।
  • সাইজ ও মেয়াদ: নতুন ধরন পরখ করতে চাইলে ছোট সাইজ নিন, আর প্যাকের মেয়াদ আর ব্যাচ দেখে নিন।

সঠিকভাবে মুখ ধোয়ার ধাপ

  • হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।
  • মুখ হালকা গরম নয়, কুসুম গরম বা সাধারণ পানিতে ভিজিয়ে নিন।
  • অল্প পরিমাণ ফেস ওয়াশ হাতে নিয়ে ফেনা বা জেল ছড়িয়ে দিন।
  • আঙুলের ডগায় ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড আলতো করে গোল করে মালিশ করুন, জোরে ঘষবেন না।
  • ভালো করে ধুয়ে ফেলুন, চুলের রেখা আর থুতনির নিচে ফেনা যেন না থাকে।
  • পরিষ্কার নরম তোয়ালে দিয়ে চেপে চেপে মুছুন, ঘষবেন না।
  • ত্বক ভেজা থাকতে থাকতেই ময়েশ্চারাইজার লাগান, দিনে বের হলে শেষে সানস্ক্রিন।

গরম ও শীতে ফেস ওয়াশে কী বদলাবেন

বাংলাদেশের গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম আর তেল বেশি জমে, তাই এই সময় জেল বা ফোমিং ধরনের হালকা ফেস ওয়াশ অনেকের কাছে আরামদায়ক লাগে। বাইরে ঘুরে এলে বাড়তি ধুলো আর সানস্ক্রিন তুলতে রাতে ভালো করে মুখ ধোয়া জরুরি।

শীতে ত্বক সহজে শুষ্ক হয়ে যায়, তখন ক্রিমি বা হাইড্রেটিং ফেস ওয়াশ ভালো, আর গরম পানি এড়িয়ে কুসুম গরম পানি ব্যবহার করুন। আবহাওয়া বদলালে ত্বকও বদলায়, তাই সারা বছর একই পণ্য মানাবে ভাবার দরকার নেই। ত্বক কেমন লাগছে সেটাই দেখুন।

সাধারণ ভুলগুলো

  • খুব গরম পানিতে মুখ ধোয়া, এতে ত্বক শুষ্ক হতে পারে।
  • দিনে অনেকবার ফেস ওয়াশ ব্যবহার করা।
  • ধোয়ার পর মুখ টানটান লাগাকে "পরিষ্কার" ভাবা। টান ধরা মানে ফেস ওয়াশ বেশি কড়া হতে পারে।
  • ফেস ওয়াশ দিয়ে ঘষে ঘষে ধোয়া বা মোটা কাপড়ে মোছা।
  • একই দিনে একসাথে অনেক নতুন পণ্য শুরু করা। একসাথে একটাই বদলান, তাহলে কোনটা মানাচ্ছে না বোঝা যায়।

ShopeMart-এ কী পাবেন

ShopeMart-এ ফেসিয়াল ওয়াশ ও ক্লিনজার ক্যাটাগরিতে নানা ধরনের পণ্য আছে। ধরন বোঝার জন্য কয়েকটা উদাহরণ, প্রতিটার বিবরণ আর প্যাকের লেবেল দেখে নিজের ত্বকের সাথে মিলিয়ে নিন:

ক্যাশ অন ডেলিভারিতে দাম দিতে পারবেন, আর রিটার্ন ও এক্সচেঞ্জ নীতি দেখে নিতে পারেন।

সাধারণ প্রশ্ন

দিনে কতবার ফেস ওয়াশ ব্যবহার করা উচিত?

সাধারণত সকালে একবার আর রাতে একবার যথেষ্ট। ঘাম বেশি হলে শুধু পানিতে ধুয়ে নেওয়া যায়।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কেমন ফেস ওয়াশ ভালো?

সাধারণত জেল বা ফোমিং ধরন বেশি মানায়। তবে খুব কড়া ফেস ওয়াশ ত্বক টানটান করে দিতে পারে, তাই ধোয়ার পর আরাম লাগছে কি না দেখুন।

শুষ্ক বা সংবেদনশীল ত্বকে কী নেবেন?

ক্রিমি বা হাইড্রেটিং আর সুগন্ধহীন মৃদু ফর্মুলা দেখুন। নতুন পণ্য ব্যবহারের আগে ছোট জায়গায় প্যাচ টেস্ট করে নিন।

ফেস ওয়াশের পর ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে?

হ্যাঁ, সাধারণত লাগানো ভালো, বিশেষ করে ত্বক ভেজা থাকতে থাকতে। ময়েশ্চারাইজার বাছতে ময়েশ্চারাইজার কীভাবে বাছবেন গাইডটা কাজে লাগবে।

ফেস ওয়াশ কি মেকআপ বা সানস্ক্রিন তুলে দেয়?

সব সময় নয়। সানস্ক্রিন বা মেকআপ বেশি থাকলে আগে ক্লিনজিং বাম বা অয়েল ব্যবহার করে তারপর ফেস ওয়াশ ব্যবহার করুন।

এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ব্রণ, চুলকানি বা জ্বালার মতো সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ShopeMart-এ কিনুন

আরও পণ্য দেখুন →