ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার উপায়: একেবারে শুরু থেকে ধাপে ধাপে

ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার উপায় আসলে কয়েকটা ছোট ধাপের সমষ্টি। প্রথমে একটা প্রোফাইল বা পেজ ঠিক করুন, তারপর কী বিক্রি করবেন তা বেছে নিন, নিয়মিত পোস্ট দিন, মেসেজে অর্ডার নিন, আর শেষে অর্ডারটা পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। এর কোনোটাই কঠিন কিছু নয়, কিন্তু ক্রমটা জানা থাকলে সময় বাঁচে।
যাঁরা মাল কিনে রাখতে চান না, তাঁদের জন্য ShopeMart-এর রিসেলার হওয়াটা একটা পথ। এই লেখায় একেবারে শুরু থেকে ধাপে ধাপে বলা হলো, ফেসবুকে কী করবেন, অর্ডার কীভাবে নেবেন, ShopeMart-এ অর্ডার কীভাবে দেবেন, আর নতুনরা সাধারণত কোন ভুলগুলো করেন।
প্রথমে ঠিক করুন: প্রোফাইল, নাকি পেজ
ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার উপায় নিয়ে ভাবলে প্রথম প্রশ্ন আসে, নিজের প্রোফাইল থেকেই বিক্রি করবেন, নাকি আলাদা পেজ খুলবেন।
- নিজের প্রোফাইল: চেনাজানা মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায়। শুরুর দিকে অনেকে এখান থেকেই চেষ্টা করেন।
- আলাদা পেজ: ব্যবসার ছবি, পোস্ট আর মেসেজ এক জায়গায় থাকে। ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মিশে যায় না, আর দেখতেও গোছানো লাগে।
দুটোই ঠিক আছে। আপনি যদি নিশ্চিত না হন, চেনা মানুষদের কাছ থেকে শুরু করুন, তারপর বিক্রি বাড়লে পেজ খুলুন। যেটাই নিন, নামটা ছোট ও মনে রাখার মতো রাখুন, আর একটা পরিষ্কার প্রোফাইল ছবি দিন। ব্র্যান্ডিং নিয়ে বিস্তারিত পাবেন দোকানের নাম ও পরিচিতি গড়ার গাইডে।
প্রোফাইল বা পেজে নিজের পরিচয় একটা ছোট বাক্যে লিখে রাখুন। যেমন, কী ধরনের পণ্য নিয়ে কথা বলেন, আর অর্ডার করতে কোথায় মেসেজ করতে হবে। এতে নতুন কেউ এলে প্রথমেই বুঝতে পারে আপনি কী করেন।
কী বিক্রি করবেন, কীভাবে বেছে নেবেন
রিসেলার হলে আপনি ShopeMart-এর Product List থেকে পণ্য বেছে নেন। শুরুতেই সব ধরনের পণ্য নিয়ে নামবেন না। এমন দুই-তিনটা ধরন বেছে নিন, যেগুলো আপনি বোঝেন আর যেগুলোর ক্রেতা আপনার চেনা মহলে আছে।
প্রতিটি পণ্যের পাশে রিসেলার দাম লেখা থাকে। আপনি সেই দামের নিচে বিক্রি করতে পারবেন না। রিসেলার দামের ওপরে নিজের দাম ঠিক করুন। এই দুই দামের পার্থক্যই আপনার লাভ। ডেলিভারির খরচও লাভের হিসাবে ধরা হয়, তাই দাম ঠিক করার সময় সেটা মাথায় রাখুন। হিসাবের উদাহরণ পাবেন দাম ও লাভের গাইডে।
কী পোস্ট করবেন
নতুনরা প্রায়ই ভাবেন, ছবি দিলেই অর্ডার আসবে। আসলে ক্রেতা জানতে চায় পণ্যটা তার কাজে লাগবে কি না। তাই পোস্টে এই কয়েকটা জিনিস রাখুন।
- পণ্যের পরিষ্কার ছবি ও সত্যি বর্ণনা
- রং, মাপ বা ধরন কী কী আছে
- আপনার দাম
- ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পাঠানো হয়, সেই কথা
- অর্ডার করতে কীভাবে মেসেজ করবেন
ছবি তোলার সময় ভালো আলোর জায়গা বেছে নিন, আর ছবিতে পণ্যের আসল রং যেন বোঝা যায় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ক্রেতা যা দেখে, হাতে পেয়ে তা না মিললে সে অসন্তুষ্ট হয়, আর সেই অসন্তুষ্টি থেকেই ফেরত আসে।
সপ্তাহে কয়েকটা পোস্ট নিয়মিত দিন। একটা পণ্যের কথা দিনে দশবার না বলে, বিভিন্ন পণ্য ঘুরিয়ে দেখান। কোন ধরনের পোস্টে ভালো সাড়া মেলে, তা খেয়াল রাখুন। আরও কৌশল আছে ফেসবুকে বিক্রির টিপসে।
মেসেজে অর্ডার কীভাবে নেবেন
কেউ মেসেজ করলে দ্রুত আর ভদ্রভাবে উত্তর দিন। তারপর অর্ডার নিশ্চিত করার আগে এই তথ্যগুলো একবার মিলিয়ে নিন।
- ক্রেতার পুরো নাম
- ফোন নম্বর, যেটা চালু থাকে
- পুরো ঠিকানা, থানা ও জেলাসহ
- কোন পণ্য, কী রং বা মাপ, কতগুলো
- মোট কত টাকা দিতে হবে, ডেলিভারি চার্জ সহ
দাম নিয়ে কথা বলার সময় লুকোছাপা করবেন না। মোট কত টাকা দিতে হবে, পণ্যের দাম কত আর ডেলিভারি চার্জ কত, শুরুতেই পরিষ্কার জানিয়ে দিন। ক্রেতা আগে থেকে জানলে ডেলিভারির সময় অপ্রস্তুত হন না, আর পণ্য ফিরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও কমে। পেমেন্ট হবে ক্যাশ অন ডেলিভারি, এটাও জানিয়ে রাখুন। ডেলিভারির সময় ক্রেতা টাকা দেন।
এই তথ্য ভুল থাকলে পরে ডেলিভারিতে সমস্যা হয়। তাই লেখা তথ্য ক্রেতাকে আবার পড়ে শুনিয়ে বা লিখে নিশ্চিত করে নিন।
ShopeMart-এ অর্ডার কীভাবে দেবেন
ক্রেতা রাজি হলে আপনি নিজে প্যানেল থেকে অর্ডারটা দেন।
- প্যানেলের Add Order পাতায় যান।
- পণ্য, ক্রেতার নাম, ফোন ও ঠিকানা দিন।
- আপনার ঠিক করা বিক্রয় দাম লিখুন। রিসেলার দামের নিচে হবে না।
- অর্ডার দেওয়ার আগে ডেলিভারি চার্জ আর হিসাব স্ক্রিনে দেখে নিন।
- অর্ডার দিন। পেমেন্ট ক্যাশ অন ডেলিভারি।
এরপর ShopeMart পণ্য প্যাক করে কুরিয়ারে পাঠায়। অর্ডারের অবস্থা দেখতে Orders List পাতা খুলুন। ডেলিভারি হলে লাভ আপনার অ্যাকাউন্টে যোগ হয়, আর Payment পাতা দিয়ে বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংকে তোলা যায়। বাতিল বা ফেরত অর্ডারে কোনো লাভ যোগ হয় না, এটা মনে রাখবেন।
নতুনদের সাধারণ ভুল
- ঠিকানা না মিলিয়ে অর্ডার দেওয়া। অসম্পূর্ণ ঠিকানার অর্ডার ফেরত আসার ঝুঁকি বাড়ায়।
- পণ্য সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া। ক্রেতা যা আশা করে, পণ্য তার সঙ্গে না মিললে ফেরত আসে, আর আপনার ওপর আস্থা কমে।
- রিসেলার দাম না দেখে দাম ঠিক করা। তাতে লাভ হিসাব মেলে না।
- একদিন পোস্ট দিয়ে থেমে যাওয়া। নিয়মিত না থাকলে ক্রেতা আপনাকে মনে রাখে না।
- সব পণ্য একসঙ্গে ধরতে যাওয়া। শুরুতে অল্প কয়েকটা পণ্য নিয়ে মনোযোগ দিন।
- অচেনা কারও কথায় তথ্য বা টাকা দেওয়া। সন্দেহজনক অর্ডার নিয়ে সতর্ক থাকতে পড়ুন প্রতারণা থেকে বাঁচার গাইড।
এই ভুলগুলো একসঙ্গে আসে না, একটা একটা করে আসে। তাই প্রতিটি অর্ডারের পর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, কোথায় আরও ভালো করা যেত। কয়েক সপ্তাহে এই অভ্যাস আপনার ব্যবসাকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নেবে। ব্যবসা বাড়তে থাকলে ট্রেড লাইসেন্স ও কর সংক্রান্ত নিয়ম আপনার ব্যবসার জন্য কী, তা যাচাই করে নেবেন।
প্রায়ই করা প্রশ্ন
ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার উপায় হিসেবে প্রথমে কোনটা করব?
প্রথমে ঠিক করুন কী ধরনের পণ্য নিয়ে কথা বলবেন, তারপর প্রোফাইল বা পেজ গুছিয়ে নিন। এরপর চেনা মানুষের কাছ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে পরিধি বাড়ান।
শুরুতেই কি ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে হবে?
না। বিজ্ঞাপন ঐচ্ছিক, আর তার খরচ আপনার নিজের। আগে নিয়মিত পোস্ট আর মেসেজের উত্তর দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করুন।
ShopeMart-এ রিসেলার হতে কি মাল কিনতে হয়?
না। আপনি মাল কেনেন না বা জমা রাখেন না। অর্ডার পেলে Add Order দিয়ে অর্ডার দেন, আর ShopeMart প্যাক করে কুরিয়ারে পাঠায়।
প্রথম মাসে কি টাকা লাগবে?
নতুন রিসেলার প্রথম ১ মাস বিনা খরচে ট্রায়াল পান, প্রতিজন একবার। ট্রায়ালের পর পেইড প্ল্যান আছে, যার বিবরণ ও দাম রিসেলার পাতায় দেওয়া আছে।
বন্ধুদের রিসেলার বানালে কি কিছু পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, অন্য রিসেলারকে সঙ্গে আনলে রেফারেল কমিশন পাওয়া যায়। এর বিস্তারিত নিয়ম রিসেলার পাতা ও প্যানেলে দেখে নেবেন।
আজই প্রথম ধাপটা নিন
ফেসবুকে ব্যবসা শুরু করার উপায় জানা হয়ে গেলে বাকি থাকে শুধু শুরু করা। একটা প্রোফাইল বা পেজ ঠিক করুন, কয়েকটা পণ্য বেছে নিন, আর প্রথম পোস্টটা দিন। ShopeMart-এ রিসেলার হওয়ার পাতা থেকে প্রথম ১ মাসের বিনা খরচের ট্রায়াল নিয়ে নিজে চেষ্টা করে দেখুন।



