নতুন রিসেলারের প্রথম ৩০ দিন: ধাপে ধাপে সহজ পরিকল্পনা

রিসেলার হিসেবে কাজ শুরু করতে বড় পুঁজি বা গোডাউন লাগে না। তবু প্রথম মাসেই অনেকে থেমে যান, কারণ কোথা থেকে শুরু করবেন সেটাই ঠিক করা থাকে না। প্রথম ৩০ দিনকে চার ভাগে ভাগ করে এগোলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।
প্রথম সপ্তাহ: ভিত্তি তৈরি
- একটা বা দুটো ক্যাটাগরি বাছুন। সব কিছু একসাথে বিক্রি করতে গেলে কোনোটাই ভালো করে বোঝানো যায় না। যেটা আপনার চেনা, যেমন থ্রি-পিস, শাড়ি বা গয়না, সেটা দিয়ে শুরু করুন।
- পণ্য চিনুন। রিসেলার প্যানেলের Product List-এ গিয়ে পণ্যে ক্লিক করুন। ছবি, বিবরণ, কালার, সাইজ আর স্টক দেখে নিন। যে পণ্য নিজে বোঝেন না, সেটা কাস্টমারকে বোঝানো কঠিন।
- শপের নাম ও লোগো দিন। Settings থেকে Business Settings-এ গিয়ে নাম, লোগো, ঠিকানা আর ফোন নম্বর দিন। আপনার অর্ডারের ইনভয়েসে এগুলোই দেখা যায়।
- পেআউট অ্যাকাউন্ট যোগ করুন। Payment পেজে আপনার bKash, Nagad, Rocket বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে রাখুন, যাতে লাভ তুলতে গিয়ে আটকে না যান।
দ্বিতীয় সপ্তাহ: নিজে একবার পুরো প্রক্রিয়া চালান
- ১০ থেকে ১৫টা পণ্য বেছে নিন। এগুলোরই ছবি আর বিবরণ নিয়ে কাজ করবেন।
- একটা পরীক্ষামূলক অর্ডার দিন। পরিচিত কেউ, যেমন পরিবারের সদস্য বা বন্ধু রাজি হলে তাঁর জন্য Add Order পেজে একটা অর্ডার তৈরি করুন। কীভাবে পণ্য বেছে নিতে হয়, দাম কোথায় বসে, লাভ কোথায় দেখা যায়, সব নিজে দেখে নিন।
- অর্ডারের অবস্থা Orders List-এ কীভাবে বদলায়, সেটাও লক্ষ করুন। কাস্টমার জিজ্ঞেস করলে আপনি তখন নিশ্চিত হয়ে উত্তর দিতে পারবেন।
তৃতীয় সপ্তাহ: মানুষের সামনে আসুন
- ফেসবুক পেজ বা প্রোফাইলে সপ্তাহে কয়েকটা করে পোস্ট দিন। পোস্টে স্পষ্ট ছবি, দাম, সাইজ আর কালার থাকুক। এ নিয়ে বিস্তারিত পাবেন ফেসবুকে বিক্রি বাড়ানোর কৌশলে।
- পরিচিত গ্রুপ আর আত্মীয়স্বজনের কাছে নিজের শপের কথা জানান।
- ইনবক্স বা মেসেজে এলে দ্রুত উত্তর দিন। দ্রুত উত্তর অনেক সময় দামের চেয়েও বড় ভূমিকা রাখে।
চতুর্থ সপ্তাহ: হিসাব মেলান ও শিখুন
- কয়টা অর্ডার এল, কয়টা পৌঁছাল, কয়টা বাতিল বা ফেরত হলো, তা লিখে রাখুন।
- কোন পণ্য বেশি জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, সেদিকে মন দিন। সেটা নিয়ে আরও বেশি পোস্ট করুন।
- দাম ঠিক আছে কি না ভেবে দেখুন। এ নিয়ে পড়ুন দাম ও লাভের হিসাবের গাইড।
শুরুতে যে ভুলগুলো এড়াবেন
- একসাথে অনেক ক্যাটাগরি ধরা।
- কাস্টমারের সাইজ না জেনে অর্ডার দেওয়া। সাইজ বোঝাতে অনলাইনে সাইজ বাছাইয়ের গাইড কাজে আসবে।
- যা সত্যি নয়, এমন কিছু বলে বিক্রি করা। ভুল প্রতিশ্রুতি পরে বাতিল আর ফেরতের কারণ হয়।
- প্রথম মাসেই বড় আয়ের আশা করা। আয় নির্ভর করে আপনার পরিশ্রম, কাস্টমারের সংখ্যা আর পণ্যের ওপর, তাই ধৈর্য ধরুন।
প্রায়ই করা প্রশ্ন
রিসেলার হতে কি নিজে স্টক রাখতে হয়?
না। অর্ডার পাওয়ার পর পণ্য প্যাক করে কাস্টমারের কাছে পাঠানোর কাজ ShopeMart করে। আপনার কাজ পণ্য দেখানো, অর্ডার নেওয়া আর কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ রাখা।
কাস্টমার কীভাবে টাকা দেয়?
এই প্যানেলের অর্ডারে কাস্টমার পণ্য হাতে পেয়ে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে টাকা দেয়। অর্ডার পৌঁছে গেলে আপনার লাভ আপনার ওয়ালেটে জমা হয়।
লাভের টাকা কীভাবে তুলব?
Payment পেজে আপনার পেআউট অ্যাকাউন্ট দিয়ে রেখে পেআউটের অনুরোধ পাঠাতে হয়। ওয়ালেটে কিছু টাকা সাময়িকভাবে On hold থাকতে পারে, যেগুলো Available হলে তোলা যায়।
এখনও রিসেলার না হয়ে থাকলে রিসেলার হওয়ার পেজে বিস্তারিত দেখে নিতে পারেন।



