Become a VendorBecome a Reseller
রিসেলার গাইড

দল গড়ে ব্যবসা বাড়ানো: রেফারেল, সহযোগী ও জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার সহজ নিয়ম

দল গড়ে ব্যবসা বাড়ানো: রেফারেল, সহযোগী ও জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার সহজ নিয়ম
Share this post

রিসেলিং একা শুরু করা যায়, কিন্তু একা বড় করা কঠিন। একসময় অর্ডার বাড়ে, ইনবক্সের মেসেজ বাড়ে, পোস্টের সংখ্যা বাড়ে, আর আপনি আটকে যান। তখন কাজ ভাগ করার কথা ভাবতে হয়। আবার আরও কয়েকজনকে ব্যবসায় আনতে পারলে সবাই মিলে শেখা আর এগোনো সহজ হয়। এই লেখায় দল গড়ার তিনটে পথের কথা আছে: রেফারেল, সহযোগী আর অভিজ্ঞতা ভাগ করা।

১. রেফারেল: অন্য রিসেলারকে সাথে আনা

রিসেলার প্যানেলের My shop পেজে আপনার একটা নিজস্ব রেফারেল লিংক থাকে। আপনার লিংকে ঢুকে অন্য কেউ রিসেলার হিসেবে যোগ দিলে সেটা আপনার রেফারেল হিসেবে ধরা হয়। প্যানেলের My shop পেজে দেখা যায় আপনার লিংকে কতজন রিসেলার যোগ দিয়েছেন আর রেফারেল থেকে আপনি কত আয় করেছেন। বোনাসের নিয়ম আর পরিমাণ সময়ের সাথে বদলাতে পারে, তাই সেটা প্যানেলে বা ShopeMart-এর রিসেলারদের পেজে দেখে নিন।

কাকে রেফার করবেন

  • পরিচিত কেউ, যিনি অনলাইনে কিছু করতে চান কিন্তু কীভাবে শুরু করবেন বুঝতে পারছেন না।
  • আপনার এলাকার বা বন্ধুমহলের সক্রিয় মানুষ, যাঁরা ফেসবুকে সময় দেন।
  • যাঁরা ইতিমধ্যে ছোট ব্যবসা করেন কিন্তু নিজের স্টক রাখতে চান না।

কীভাবে বলবেন

  • নিজের অভিজ্ঞতার কথা সৎভাবে বলুন। কী ভালো লেগেছে, কী কঠিন, কত সময় দিতে হয়, এসব খোলাখুলি জানান।
  • কোনো আয়ের প্রতিশ্রুতি দেবেন না। আয় নির্ভর করে প্রত্যেকের পরিশ্রম আর পরিস্থিতির ওপর। অতিরঞ্জিত কথা বলে কাউকে আনলে সে আশাহত হলে আপনার সম্পর্কও নষ্ট হয়।
  • তাঁকে সাহায্য করুন। প্রথম কয়েক সপ্তাহ তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিন, নতুন রিসেলারের প্রথম ৩০ দিনের পরিকল্পনা দেখান।
  • জোর করবেন না। যিনি আগ্রহী নন, তাঁকে বারবার বললে বিরক্তি বাড়ে।

রেফারেল লিংক কোথায় শেয়ার করবেন

নিজের পরিচিতদের সাথে সরাসরি, ফেসবুক পোস্টে বা স্টোরিতে, হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত বার্তায়। অপরিচিতদের কাছে বা অনুমতি ছাড়া গ্রুপে বারবার লিংক পাঠাবেন না, তা স্প্যাম ধরা হয়। নিজের লিংক সবসময় নিজের কাছে রাখুন আর ঠিকমতো পরীক্ষা করে পাঠান।

২. সহযোগী রাখা: কাজ ভাগ করে নেওয়া

ব্যবসা বাড়লে কিছু কাজ অন্য কাউকে দেওয়া যায়। তবে কাজ বুঝিয়ে দিলেও আপনার শপের নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতেই থাকবে।

কোন কাজ ভাগ করা যায়

  • ছবি তোলা ও সম্পাদনা। পরিবারের কেউ বা কোনো বন্ধু সাহায্য করতে পারেন।
  • ইনবক্সের সাধারণ প্রশ্নের উত্তর। তৈরি উত্তরের তালিকা দিলে সহযোগী প্রাথমিক প্রশ্ন সামলাতে পারেন। নিয়ম আছে কাস্টমার সার্ভিস গাইডে।
  • পোস্টের সময়সূচি ও কনটেন্ট প্রস্তুত করা।
  • হিসাবের খাতা লেখা।

যে কাজ নিজের হাতে রাখবেন

  • অর্ডার দেওয়া ও কাস্টমারের তথ্য। কাস্টমারের নাম, ঠিকানা আর ফোন নম্বর যত কম লোকের কাছে থাকে, তত নিরাপদ।
  • অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড আর পেআউটের তথ্য। এগুলো কারও সাথে ভাগ করবেন না। নিরাপত্তার নিয়ম আছে প্রতারণা ও নিরাপত্তার গাইডে।
  • দাম ও লাভের সিদ্ধান্ত।

সহযোগীকে কীভাবে কাজ বোঝাবেন

  • কাজের একটা লিখিত তালিকা দিন, কী করতে হবে আর কী করা যাবে না।
  • কয়েকটা নমুনা উত্তর আর পোস্ট দেখিয়ে দিন।
  • প্রথম কয়েক দিন পাশে থেকে কাজ দেখুন আর ভুল হলে ভদ্রভাবে শুধরে দিন।
  • তাঁর কাজের জন্য ন্যায্য সম্মান বা পারিশ্রমিকের ব্যবস্থা রাখুন। নিয়মগুলো আগেই স্পষ্ট করে নিন, যাতে পরে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।

৩. অভিজ্ঞতা ভাগ করা: জ্ঞানের দল

যাঁদের সাথে আপনি ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে পারেন, তাঁদের নিয়ে একটা ছোট দল বানান। এটা হতে পারে এমন কয়েকজন রিসেলারের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, যাঁরা পরস্পরের প্রতি সৎ আর সহযোগী।

  • কী ভাগ করবেন। কোন পণ্য ভালো চলছে, কোন পোস্টে সাড়া বেশি, কোন ভুল করে ক্ষতি হলো, কোন কৌশল কাজে লাগল।
  • কী ভাগ করবেন না। কাস্টমারের ব্যক্তিগত তথ্য, নিজের পাসওয়ার্ড বা পেআউটের তথ্য।
  • নিয়ম রাখুন। গ্রুপে অকারণ বিজ্ঞাপন নয়, অন্যের সমালোচনা নয়, শুধু শেখা আর সাহায্য।

অন্যের অভিজ্ঞতা থেকে শিখলে আপনাকে প্রতিটা ভুল নিজে করে শিখতে হয় না। আর আপনার অভিজ্ঞতাও অন্য কারও কাজে লাগতে পারে।

৪. দল বড় হলে যা মনে রাখবেন

  • মান বজায় রাখুন। আপনার শপের নামে যেই কাজ করুক, কাস্টমারের অভিজ্ঞতা যেন একই মানের থাকে। শপের পরিচয় ঠিক রাখতে শপের ব্র্যান্ড গড়ার গাইড দেখুন।
  • হিসাব আলাদা রাখুন। কে কী কাজ করল আর কত পাওনা হলো, লিখে রাখুন। হিসাবের নিয়ম আছে রিপিট কাস্টমার ও হিসাব রাখার গাইডে।
  • স্বচ্ছ থাকুন। দলের কাউকে কোনো কিছু কথা দিলে সেটা রাখুন। সততা দলকে ধরে রাখে।
  • ধীরে বাড়ান। একসাথে অনেক লোক এনে ফেললে সামলানো কঠিন হয়। একজন একজন করে এগোন।

একটা ছোট বাস্তব পরিকল্পনা

ধরুন, আপনি তিন মাস ধরে রিসেলিং করছেন আর বেশ গুছিয়ে নিয়েছেন। এখন দল গড়তে চান। একটা সহজ পরিকল্পনা হতে পারে এমন:

  • প্রথম সপ্তাহে: পরিচিতদের মধ্যে দুই-তিনজনকে ভাবুন, যাঁরা আগ্রহী হতে পারেন। তাঁদের সাথে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে সৎভাবে কথা বলুন।
  • দ্বিতীয় সপ্তাহে: যিনি আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাঁকে আপনার রেফারেল লিংক দিন আর প্যানেলের কাজ কীভাবে চলে, তা দেখিয়ে দিন।
  • তৃতীয় সপ্তাহে: তাঁর প্রথম অর্ডারে পাশে থাকুন। কীভাবে কাস্টমারের সাথে কথা বলবেন, কীভাবে অর্ডার দেবেন, সব দেখিয়ে দিন।
  • চতুর্থ সপ্তাহে: তিনি নিজের মতো করে চালাতে শুরু করলে দূর থেকে সাহায্য করুন, প্রশ্ন এলে উত্তর দিন।

এভাবে ছোট করে শুরু করলে আপনি ধাপে ধাপে বুঝতে পারবেন কীভাবে অন্যকে সাহায্য করতে হয়, আর আপনার সময়ও অতিরিক্ত নষ্ট হয় না।

যা এড়িয়ে চলবেন

  • অতিরঞ্জিত গল্প। "এক মাসেই লাখ টাকা" ধরনের কথা বলবেন না। এটা সত্যি নয়, আর এতে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা যায়।
  • চাপ দেওয়া। কেউ এখনই যোগ দিতে না চাইলে চাপ দেবেন না। সময় দিন।
  • একই লোককে দিয়ে সব করানো। সবকিছু সহযোগীর ওপর ছেড়ে দিলে আপনি শপের সাথে সম্পর্ক হারান। কিছু কাজ নিজের কাছে রাখুন।
  • হিসাবে অস্বচ্ছতা। কে কত পাবেন, তা আগে থেকে স্পষ্ট করে নিন আর লিখে রাখুন।

দল গড়ে সবাই মিলে এগোলে কাজও সহজ হয়, আর একজন আরেকজনের কাছ থেকে শেখাও যায়। তবে সবকিছুর মূল ভিত্তি আপনার নিজের শপের মান আর কাস্টমারের ভরসা। সেটা ঠিক থাকলে দল বড় হলেও আপনার ব্যবসা শক্ত থাকবে।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখুন

যাঁদের আপনি দলে এনেছেন, তাঁদের সাথে মাঝেমধ্যে খোঁজ নিন। কেউ আটকে গেলে একটা ছোট পরামর্শ অনেক সময় আবার তাঁকে এগিয়ে দেয়। কেউ ভালো করলে তাঁর কাজের প্রশংসা করুন। আর কেউ যদি ব্যবসা ছেড়ে দিতে চান, কোনো অভিমান না রেখে বিদায় জানান। সম্পর্ক ভালো থাকলে পরে তিনি অন্য কাউকে আপনার কথা বলতে পারেন।

প্রায়ই করা প্রশ্ন

রেফারেল থেকে কি নিশ্চিত আয় হবে?

না। এটা আপনার লিংকে কেউ যোগ দিলে তবেই হয়, আর নিয়ম বদলাতে পারে। এটাকে বাড়তি সুযোগ ভাবুন, মূল আয়ের ভরসা নয়।

সহযোগী রাখলে কি আমার কাস্টমারের তথ্য ঝুঁকিতে পড়বে?

ঝুঁকি থাকে, তাই বিশ্বাসযোগ্য মানুষকে বেছে নিন আর তথ্য যতটা সম্ভব সীমিত রাখুন। প্রয়োজনের বেশি তথ্য কাউকে দেবেন না।

একা কি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া যায়?

হ্যাঁ। দল গড়া বাধ্যতামূলক নয়। কিন্তু ব্যবসা বড় করতে চাইলে এক সময় কাজ ভাগ করার প্রয়োজন হবে।

আপনার সব কাজ গুছিয়ে চালানোর দৈনিক রুটিন দেখুন সময় ভাগ করার গাইডে।