Become a VendorBecome a Reseller
রিসেলার গাইড

রিসেলিং ব্যবসা বড় করার ৬ মাসের পরিকল্পনা: লক্ষ্য ঠিক করা, মাপা আর ধাপে ধাপে বাড়ানো

রিসেলিং ব্যবসা বড় করার ৬ মাসের পরিকল্পনা: লক্ষ্য ঠিক করা, মাপা আর ধাপে ধাপে বাড়ানো
Share this post

প্রথম কয়েক সপ্তাহ পার করার পর একটা প্রশ্ন সবার মনে আসে: এরপর কী? দিনের পর দিন একই কাজ করে গেলে ব্যবসা নিজে থেকে বড় হয় না। লক্ষ্য ঠিক করে, নিয়মিত মেপে আর ধাপে ধাপে এগোলে তবেই ব্যবসা বাড়ে। এই লেখায় ছয় মাসের একটা পরিষ্কার পরিকল্পনা দেওয়া হলো, যা আপনি নিজের অবস্থা অনুযায়ী বদলে নিতে পারবেন। এই সংখ্যা আর লক্ষ্যগুলো উদাহরণ, আপনার নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী ঠিক করুন।

আগে নিজের বর্তমান অবস্থা জানুন

পরিকল্পনা বানানোর আগে হিসাব করে নিন, আপনি এখন কোথায় দাঁড়িয়ে:

  • মাসে গড়ে কয়টা অর্ডার আসছে?
  • তার কয়টা পৌঁছাচ্ছে আর কয়টা বাতিল বা ফেরত হচ্ছে?
  • মাসে মোট লাভ কত?
  • আপনার খরচ কত, যেমন বিজ্ঞাপন, ইন্টারনেট বা অন্য খরচ?
  • কোন পণ্য সবচেয়ে ভালো চলে?
  • আপনার কাস্টমারদের মধ্যে কতজন আবার কিনেছেন?

এই সংখ্যাগুলো আপনার শুরুর বিন্দু। হিসাব রাখার নিয়ম আছে রিপিট কাস্টমার ও হিসাব রাখার গাইডে।

লক্ষ্য ঠিক করার নিয়ম

ভালো লক্ষ্যের কয়েকটা বৈশিষ্ট্য থাকে।

  • নির্দিষ্ট। "ব্যবসা বড় করব" না বলে বলুন, "মাসে অর্ডার ১০০ থেকে ১৫০-তে নেব।"
  • মাপা যায়। সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করুন, যাতে পৌঁছালেন কি না বোঝা যায়।
  • বাস্তবসম্মত। আপনার সময়, সামর্থ্য আর বর্তমান অবস্থার সাথে মিলিয়ে ঠিক করুন। অতি উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য কিছুদিন পরেই হতাশা আনে।
  • সময় বাঁধা। কবে পর্যন্ত লক্ষ্য ছুঁতে চান, তা ঠিক করুন।

লক্ষ্য মাত্র একটা বা দুটো রাখুন। অনেকগুলো লক্ষ্য একসাথে ধরলে কোনোটাই হয় না।

ছয় মাসের ধাপ

প্রথম মাস: ভিত্তি মজবুত করা

  • নিজের বর্তমান হিসাব ঠিকমতো লিখে রাখা শুরু করুন।
  • সবচেয়ে ভালো চলা ৫ থেকে ১০টা পণ্য বেছে নিন। বাছাইয়ের নিয়ম আছে কোন পণ্য বিক্রি করবেন লেখায়।
  • শপের নাম, লোগো আর ছবির ধরন ঠিক করুন। দেখুন শপের ব্র্যান্ড গড়ার গাইড।
  • বাতিল আর ফেরতের কারণ খুঁজে প্রধান কারণটা কমান।

দ্বিতীয় মাস: কনটেন্ট আর সার্ভিস শক্ত করা

তৃতীয় মাস: নতুন কাস্টমারের কাছে পৌঁছানো

চতুর্থ মাস: পুরনো কাস্টমারকে ফেরানো

পঞ্চম মাস: সময় আর কাজ গুছিয়ে নেওয়া

ষষ্ঠ মাস: পর্যালোচনা আর পরের ছয় মাসের পরিকল্পনা

  • ছয় মাসের সব সংখ্যা মিলিয়ে দেখুন: অর্ডার, লাভ, ফেরত, নতুন আর পুরনো কাস্টমার।
  • কোন কাজে সবচেয়ে ভালো ফল এল আর কোনটাতে হলো না, লিখে ফেলুন।
  • পরের ছয় মাসের নতুন লক্ষ্য ঠিক করুন।
  • নিজের ওয়েবসাইটের কথা ভাবতে পারেন, যদি ব্যবসা স্থিতিশীল হয়। দেখুন ওয়েবসাইট যুক্ত করার ধারণা।

প্রতি মাসের শেষে কী মাপবেন

প্রতি মাসের শেষে একই কয়েকটা সংখ্যা দেখুন, যাতে মাসের সাথে মাস তুলনা করা যায়:

  • মোট অর্ডার আর পৌঁছানো অর্ডার।
  • বাতিল আর ফেরতের হার।
  • মোট লাভ আর নিট লাভ।
  • নতুন কাস্টমার আর পুনরায় কেনা কাস্টমার।
  • সবচেয়ে ভালো চলা পণ্য।

সংখ্যা বাড়লে বুঝবেন ঠিক পথে আছেন, কমলে কারণ খুঁজবেন।

আটকে গেলে কী করবেন

  • অর্ডার বাড়ছে না। পণ্য, ছবি, দাম আর বিজ্ঞাপন, এক এক করে দেখুন। একসাথে সব বদলাবেন না।
  • ফেরত বেশি। সাইজ, রঙের তথ্য আর কাস্টমারকে নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া ঠিক করুন।
  • লাভ কম। দাম আর ডেলিভারি চার্জের হিসাব ঠিক আছে কি না দেখুন। দেখুন দাম ও লাভের গাইড।
  • ক্লান্ত লাগছে। কাজ ভাগ করুন, বিশ্রাম নিন আর লক্ষ্য একটু ছোট করুন।

ধৈর্য ধরুন, ধারাবাহিক থাকুন

ব্যবসা হঠাৎ করে বড় হয় না। ছোট ছোট উন্নতি জমে জমে বড় ফল আনে। কোনো মাস খারাপ গেলে হাল ছাড়বেন না, কারণ খুঁজে শুধরে নিন। যিনি নিয়মিত থাকেন, শেখেন আর নিজের কাস্টমারদের যত্ন নেন, তাঁর ব্যবসা সময়ের সাথে শক্ত হয়ে ওঠে।

একটা নমুনা লক্ষ্যের তালিকা

নিচের তালিকাটা শুধু একটা উদাহরণ। আপনার নিজের সংখ্যা আলাদা হবে, তাই নিজের শুরুর বিন্দু থেকে হিসাব করে লিখুন।

  • শুরুর অবস্থা: মাসে ৩০টা অর্ডার, ১০টা ফেরত বা বাতিল।
  • তৃতীয় মাসের লক্ষ্য: মাসে ৫০টা অর্ডার, ফেরত ও বাতিল ৮টার নিচে।
  • ষষ্ঠ মাসের লক্ষ্য: মাসে ৮০টা অর্ডার, ফেরত ও বাতিল ১০টার নিচে, আর কাস্টমারদের মধ্যে কমপক্ষে কয়েকজন আবার কিনছেন।

লক্ষ্য কেবল অর্ডারের সংখ্যায় আটকে না রেখে ফেরতের হার আর নিট লাভও রাখুন। অনেক অর্ডার কিন্তু অনেক ফেরত থাকলে লাভ বাড়ে না।

প্রতিটি মাসে একটা মূল কাজ

ছয়টা মাসে ছয়টা বড় কাজ করা কঠিন নয়, কিন্তু একই মাসে সব করতে গেলে সব আধা-আধি থেকে যায়। প্রতি মাসে একটা মূল কাজ ঠিক করুন আর বাকি সময়ে বর্তমান কাজগুলো ঠিকমতো চালান। যেমন প্রথম মাসে মূল কাজ ভিত্তি, দ্বিতীয় মাসে ছবি আর সার্ভিস। এভাবে প্রতি মাসে একটা জায়গা শক্ত হয়ে যায়, আর ছয় মাস পর আপনি অনেক শক্ত অবস্থানে থাকেন।

নিজের ওপর ধৈর্য রাখুন

কখনো কখনো মাসের শেষে মনে হবে কিছুই এগোয়নি। এমন অবস্থায় আগের মাসের সংখ্যার সাথে তুলনা করুন, ছোট উন্নতিও চোখে পড়বে। আর যা শিখলেন, সেটাও একটা অর্জন। যেসব ভুল আপনি এখন ধরতে পারছেন, ছয় মাস আগে সেগুলো ধরতে পারতেন না।

ছয় মাস পর কী করবেন

ছয় মাস পূর্ণ হলে থেমে না গিয়ে পরের ছয় মাসের জন্য আবার একই নিয়মে পরিকল্পনা করুন। এবার আপনার হাতে সত্যিকারের সংখ্যা আছে, তাই লক্ষ্যগুলো আরও বাস্তবসম্মত করা যাবে। কোন পণ্য আর কোন কৌশল আপনার জন্য কাজ করে, আপনি ততদিনে জানেন। সেগুলোর ওপর ভরসা করে ধীরে ধীরে নতুন কিছু পরীক্ষা করুন, যেমন নতুন ক্যাটাগরি, নিজের ওয়েবসাইট বা দল গড়া। যিনি নিজের কাজ নিয়মিত মাপেন, শেখেন আর বদলান, সময়ের সাথে তাঁর ব্যবসাই সবচেয়ে এগিয়ে যায়।

প্রায়ই করা প্রশ্ন

ছয় মাসে কি নিশ্চিত বড় আয় হবে?

নিশ্চিত করে বলা যায় না। আয় নির্ভর করে আপনার পরিশ্রম, পণ্য, কাস্টমার আর বাজারের ওপর। পরিকল্পনা আপনাকে ঠিক পথে এগোতে সাহায্য করে, ফলাফলের নিশ্চয়তা দেয় না।

লক্ষ্য পূরণ না হলে কী করব?

কারণ খুঁজে দেখুন, লক্ষ্য বেশি উঁচু ছিল, নাকি কাজে ঘাটতি ছিল। তারপর লক্ষ্য বা কাজ বদলে আবার চেষ্টা করুন।

পরিকল্পনা কি বদলানো যায়?

অবশ্যই। এটা আপনার সুবিধার জন্য। পরিস্থিতি বদলালে পরিকল্পনাও বদলে নিন।

আর যদি আপনি এই সিরিজের শুরুর লেখাগুলো না পড়ে থাকেন, তাহলে নতুন রিসেলারের প্রথম ৩০ দিন দিয়ে শুরু করতে পারেন। রিসেলার হতে আগ্রহী কাউকে জানাতে চাইলে রিসেলার হওয়ার পেজ দেখান।